Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলা ভাগ চান অনন্ত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাঁকেই রাজ্যসভায় তাদের প্রথম প্রার্থী করল বিজেপি

শঙ্খদীপ দাস একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তাদের শক্তি বাড়িয়ে ৩ থেকে ৭৭ হয়েছিল বিজেপি। সেই সুবাদে বাংলা থেকে রাজ্যসভা ভোটে তারা ১টি আসন পেতে চলেছে। রাজনৈতিক ভাবে বাংলা বিজেপির জন্য এ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।অতীতে দেখা গিয়েছে এহেন সন্ধি

বাংলা ভাগ চান অনন্ত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাঁকেই রাজ্যসভায় তাদের প্রথম প্রার্থী করল বিজেপি

শেষ আপডেট: 12 July 2023 09:37

শঙ্খদীপ দাস

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তাদের শক্তি বাড়িয়ে ৩ থেকে ৭৭ হয়েছিল বিজেপি। সেই সুবাদে বাংলা থেকে রাজ্যসভা ভোটে তারা ১টি আসন পেতে চলেছে। রাজনৈতিক ভাবে বাংলা বিজেপির জন্য এ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।
অতীতে দেখা গিয়েছে এহেন সন্ধিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে এমন মুখ বেছে নেওয়া হয়েছে, যা মাইলফলক হয়ে রয়েছে। যেমন ১৯৫২ সালে অভিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি সম্ভবত প্রথম বার বাংলা থেকে রাজ্যসভায় প্রার্থী করেছিলেন ভূপেশ গুপ্তকে। ভূপেশবাবু শুধু তাঁর দল নয়, সামগ্রিক ভাবে গোটা বাংলার প্রতিনিধিত্ব করতেন সংসদের উচ্চকক্ষে। রাজ্যসভায় বাংলার প্রতিনিধি হিসাবে ভূপেশবাবুর অধ্যায় এখনও গৌরবময়।

মঙ্গলবার, বাংলা থেকে রাজ্যসভায় তাদের প্রথম আসনের জন্য বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দেখা গেল, গ্রেটার কোচবিহারের নেতা অনন্ত মহারাজকে (Ananta Maharaj) মনোনয়ন দিচ্ছে তারা। উত্তরবঙ্গে রাজবংশী ভোটের উপর অনন্তর প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।

বিজেপির এই ঘোষণার মধ্যে অবশ্য খুব রহস্য ছিল না। দ্য ওয়ালে আগে লেখা হয়েছিল যে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা তাঁর নাম প্রস্তাব করেছেন। তা ছাড়া কোচবিহারের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বিশেষ আগ্রহ ছিল অনন্তকে প্রার্থী করার জন্য।

কিন্তু এই ঘোষণার পরক্ষণেই প্রশ্ন উঠছে যে বাংলা থেকে তাদের প্রথম রাজ্যসভা আসনের জন্য বিজেপি এমন কোনও মুখ বেছে নিল কি, যিনি গোটা বাংলার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন?

একটু পিছনের দিকে হাঁটলে অনন্তর যে অবস্থান দেখা যাচ্ছে, তাতে অনেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, বাংলার ব্যাপারে বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও।
গত বছর ১০ সেপ্টেম্বরের ঘটনার কথাই ধরা যাক। অনন্ত মহারাজ সেদিন দাবি করেছিলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অনন্তকে অমিত শাহ আশ্বস্ত করেছেন যে উত্তরবঙ্গ পৃথক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হবে (Ananta Maharaj wanted Bengal Partition)।
মহারাজ সেদিন এও বলেছিলেন, “এটা যে সে লোকের কথা নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এই কথা দিয়েছেন”। অনন্ত দাবি করেছিলেন, উত্তরবঙ্গ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হলে তাঁর হাতে বৃহত্তর ক্ষমতা থাকবে।

ফলে বিজেপি অনন্তকে প্রার্থী করতেই প্রশ্ন উঠেছে যে, বাংলা ভাগের দাবিকে তাহলে সমর্থন করছে বিজেপি? ভবিষ্যতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ভাগাভাগি করতে চাইছেন কি অমিত শাহরা? একুশের বিধানসভা ভোটের পর থেকেই উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতাদের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রী জন বার্লা বার বার বাংলা ভাগের কথা বলতে শুরু করেছিলেন। উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য করার দাবি উস্কে দিতে তখন ধারাবাহিক বিবৃতি দিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভায় প্রার্থী করার নেপথ্যে বিজেপির ষোল আনা রাজনৈতিক অঙ্ক রয়েছে। গত লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে নিরঙ্কুশ ভাবে জিতেছিল বিজেপি। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, বালুরঘাট, রায়গঞ্জ, মালদহ (উত্তর) সব আসনেই জিতেছিল তারা। এর পরেও অনন্ত মহারাজকে সরাসরি বিজেপিতে টেনে রাজবংশী ভোট নিশ্চিত করার তৎপরতায় একটি বিষয় হয়তো স্পষ্ট হচ্ছে। তা হল, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার বা জলপাইগুড়িতে পুনরায় জেতার ব্যাপারে বিজেপি হয়তো ষোলো আনা আত্মবিশ্বাসী নয়।

‘অমিত শাহ আমাকে জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হবে’, দাবি অনন্ত মহারাজের

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরা অবশ্য বলেছেন, এটা অপব্যাখ্যা। বিজেপির সঙ্গে বরাবরই সুসম্পর্ক ছিল অনন্ত মহারাজের। বিজেপি তাঁর মতামতকে বরাবর গুরুত্ব দিয়েছে। উত্তরবঙ্গে রাজবংশী সমাজ দীর্ঘ বঞ্চনার শিকার। তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করেছে সর্বভারতীয় বিজেপি। এতে রাজ্যের নেতাদের পূর্ণ সমর্থন ও আস্থা রয়েছে।

বাংলা থেকে রাজ্যসভায় বিজেপির প্রথম প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় ছিলেন, দলের বহুদিনের নেতা শমীক ভট্টাচার্য, শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর অনির্বান গঙ্গোপাধ্যায়, স্বপন দাশগুপ্ত, মিঠুন চক্রবর্তী, প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহা প্রমুখ।

দিল্লি বিজেপির এদিনের ঘোষণায় তাই রাজ্য সংগঠনের একাংশের মনেও কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, বাইরে থেকে উড়ে এসে একজন জুড়ে বসলেন। আর তৃণমূল থেকে আসা এক শ্রেণির নেতা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য তাঁর নামে সুপারিশ করলেন। বাংলা বিজেপির জন্য এটা ভাল না। দলের এক রাজ্য নেতার কথায়, ভুলে গেলে চলবে না, অনন্ত মহারাজ হলেন এক ‘মিসগাইডেড মিসাইল’। উনি এবার কখন কী বলে বসবেন, কী দাবি জানাবেন কেউ জানে না। হয়তো তা বৃহত্তর রাজনৈতিক ক্ষতি করে দিতে পারে বিজেপির।

রাজ্যসভায় অনন্ত মহারাজকে প্রার্থী করল বিজেপি, নিশীথ মঙ্গলবার প্রস্তাব দিয়ে এসেছিলেন


```