দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: মে মাসের শেষের দিকে জেলার বুকের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল সর্বনাশা উমফান ঝড়। ঝড়ের দাপটে সেসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রাস্তার ধারের একটি কদম গাছ। রবিবার ভোররাত্রে সেই গাছেরই একটি ডাল ভেঙে বেঘোরে প্রাণ হারালেন এক মহিলা। টালির চাল ভেঙে ঘরের ভিতর গাছের ডাল পড়ে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। মৃতার নাম বিজলি দাস(৪৫)। হুগলির চুঁচুড়া পৌরসভার ২৮ নং ওয়ার্ড কনকশালী বোসের ঘাট এলাকার ঘটনা।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, মে মাসের শেষের দিকে উমফান ঝড়ের তাণ্ডব বয়ে যায় এলাকার উপর দিয়ে। সে সময় আরও অনেক গাছের মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তার ধারের ওই কদম গাছটিও। রোববার ৬ই সেপ্টেম্বর ভোর রাতে সেই গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে পাশের একটি টালির ঘরে। ঘরের বাসিন্দারা তখন ঘুমে অচেতন। টালির চাল ভেঙে ডাল চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মুত্যু হয় ওই পরিবারের গৃহকর্ত্রী বিজলি দাসের। মৃতার স্বামী পেশায় রিক্সাচালক বিশ্বনাথ দাস এবং ছেলে সুজয় দাসও তখন ওই ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন।
মৃতার বাড়ির লোকজন এদিন সংবাদমাধ্যমে জানান ভোর রাতে আচমকা গাছের একটি মোটা ডাল টালির চাল ভেঙে বিশ্বনাথবাবুর ঘরের খাটের উপর পড়ে। ওই সময় ওই খাটেই ঘুমোচ্ছিলেন বিশ্বনাথবাবুর স্ত্রী বিজলি দেবী। ডালটি ওর শরীরের উপরেই ভেঙে পড়ায় জোর আঘাত পান বিজলি দেবী। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তক্ষুনি তাকে উদ্ধার করে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পর্যবেক্ষণের পর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বিজলি দেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেছেন।
মৃতার ছেলে এবং আশেপাশের প্রতিবেশীরা জানান, উমফানে এলাকার গাছপালার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল। ক্ষতি হয় এই কদম গাছটিরও। গাছটিকে কেটে সরিয়ে ফেলার আবেদনও করা হয় পুরসভার কাছে। কিন্তু সমগ্র গাছটি না কেটে পুরসভার লোকজন কেবল কয়েকটি ডাল ছেঁটে দিয়ে চলে যায় সেইসময়।
পুরসভার কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুর প্রশাসক জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছটির বিপজ্জনক ডালগুলো কেটে ফেলা হয়েছিলো। বাকি অংশ অক্ষত থাকায় তা কাটার অনুমতি ছিলো না। আর সেই গাছ চাপা পরেই ভোররাত্রে বেঘোরে প্রাণ গেলো মহিলার।