দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: সুপার সাইক্লোন উমফান থাবা বসাল শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের গর্বের বটবৃক্ষেও।
ঝড়ের দাপট কতটা ছিল আর কতটা ধংসলীলা চালিয়েছে এই ঘূর্ণিঝড় তা বোঝা গেল শিবপুর আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসু উদ্ভিদ উদ্যানে। এই ঝড়ে লন্ডভন্ড ২৩০ বছরের প্রাচীন এশিয়ার অন্যতম বড় এই উদ্ভিদ উদ্যান। অন্যতম আকর্ষণ পৃথিবীর সব থেকে বড় বট বৃক্ষও রেহাই পায়নি। ঝড়ের তান্ডবে মাটিতে উপড়ে পড়েছে গাছের বড় বড় গুড়ি। গাছের পুরনো অংশের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। উদ্যান কর্তৃপক্ষের দাবি, বহু প্রাচীন গুড়ি , যা কাণ্ডের চেহারা নিয়েছে, তার অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত।
ঝড়ের তাণ্ডবে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে মেহগিনি গাছের এভিনিউ সহ অন্যান্য আরও কয়েকটি এভিনিউয়ের। দেশি বিদেশি প্রচুর গাছ ভেঙে পড়ে রয়েছে রাস্তায়। যার মধ্যে দুষ্প্রাপ্য বহু গাছ রয়েছে।ঝড়ে পড়ে গেছে প্রচুর ফল।নষ্ট হয়ে গেছে বহু পাখির বাসা।
কর্তৃপক্ষের মতে, কত গাছ ভেঙেছে তার এখনও হিসাব নেই। এককথায় অগণিত।আর এই ক্ষতি অপরিসীম।ঝড়ে বিধস্ত উদ্যানের বিভিন্ন অংশ আজ পরিদর্শন করেন উদ্যানের আধিকারিক ও বিজ্ঞানীরা। শিবপুর বি গার্ডেনকে কীভাবে আবার আগের অবস্থায় আনা যায় তা নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে পরিকল্পনা। আজ বিশেষ বৈঠক করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে প্রথমে কত বছরের পুরনো ও কত গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা জানা। এরকম গাছগুলির কতটা ক্ষতি হয়েছে তা পরীক্ষা করা। যে গাছগুলি বাঁচানো সম্ভব নয় সেগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। সেখানে সেই প্রজাতির নতুন গাছ লাগানো হবে। কম ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলি বাঁচানোর জন্য সব রকম চেষ্টা চালাবেন এই উদ্যানের বিজ্ঞানীরা। কারণ এইসমস্ত গাছগুলি সবই গবেষণার কাজেও লাগে।
বিজ্ঞানী বসন্ত সিং বলেন, "ক্ষতি অপরিসীম। গ্রেট ব্যানিয়ন ট্রির একটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচুর পুরনো গাছ, যেগুলোর দুশো বছর প্রায় বয়স সেগুলো ভেঙে পড়েছে। নতুনভাবে আবার গাছ বসাতে হবে।"