দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগেই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, উমফানের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে কি না তা তদন্ত করবে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল তথা ক্যাগ। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু শুক্রবার রাজ্যের সেই আর্জি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
রাজ্যের তরফে আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে আর সময় দেওয়া যাবে না। আদালত এও বলেছে, রাজ্যের যদি এর পরেও কিছু বলার থাকে, চ্যালেঞ্জ করার থাকে, তাহলে তারা সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে।
গত মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে আদালত বলেছে, কাদের ত্রাণ পাওয়ার কথা অথচ পাননি, কেন পাননি, কী প্রক্রিয়ায় ঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ বন্টন হয়েছিল, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যদি ত্রাণ না পেয়ে থাকেন তাহলে তাঁরা কেন পাননি—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট আগামী তিন মাসের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ক্যাগকে।
গোসাবা থেকে সন্দেশখালি এই রকম অসংখ্য ঘটনা দেখা গিয়েছে যে, শাসকদলের নেতাদের নাম রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায়। মিলিয়ে দেখা গিয়েছে তাঁদের বাড়িঘরের তেমন কোনও ক্ষতিই হয়নি। কারও তিন তলা বাড়ি রয়েছে তাঁর নামও উমফানের টাকা প্রাপকের তালিকায় উঠে গেছিল। পরে অবশ্য এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠাতে গিয়ে দু’একটা ভুল হয়ে গিয়েছে।”
বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, উমফান দুর্নীতি নিয়ে সর্বদল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, বিডিও অফিস গুলিতে কারা টাকা পাচ্ছেন তাদের নামের তালিকা ঝোলানো হবে। কিন্তু সেসব কিছুই হয়নি। এদিন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে রাজ্য সরকার লুকোতে চাইছে। নাহলে ক্যাগ যদি তদন্ত করে তাহলে আপত্তির কী আছে? ডিভিশন বেঞ্চে এত ছোটাছুটির কী প্রয়োজন?”