দ্য ওয়াল ব্যুরো: চব্বিশ ঘণ্টা সময় লাগল না। চার রাজবর পরিবারকে নিয়ে শুরু হয়ে গেল রাজনীতির টানাপোড়েন।
বিষ্যুৎবার বিকেলে বলরামপুরে বিজেপি’র শহীদ স্মরণ সভার আগে সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ যে চার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন আজ বিকেলে তাঁরাই তৃণমূলে যোগ দিলেন। আর এই যোগদান নিয়ে শুরু হয়ে গেল তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর।
ওই চার পরিবারের দুই বৃদ্ধা এবং দুই যুবক আজ আসেন কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে। যদিও বিজেপি’র বক্তব্য ওঁরা কেউ আসেননি ওঁদের তুলে আনা হয়েছে। ওই চারজনকে নিয়ে বিকেলে মেগা সাংবাদিক বৈঠক করলেন মদন মিত্র এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন। মদন এ দিন বলেন, ‘ওঁর (পড়ুন অমিত শাহ) চেহারা দেখে ওঁকে সবাই চম্বলের ডাকাত ভেবেছে। তাই ভয়ে ছুটে এসেছে বাংলার মায়ের কাছে।’ বিজেপি সভাপতির প্রতি প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘আগেরবার এসে কলা পাতায় ভাত-মুগের ডাল খেয়েছিলেন। এ বার চেয়ারও জোটেনি। পরের বার ঢুকতেই পারবেন না।’ পুরুলিয়া থেকে আসা ওই চারজনকে দেখিয়ে সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, ‘ওঁরা মানসিক ভাবে ট্রমাটাইজড। ওঁদের এমনভাবে জোর করা হয়েছে তাতে ওঁরা ভীত।’
এরপরই শুরু হয় ‘শেখানো চিত্রনাট্য’ মঞ্চস্থের পালা। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ খোলেন পুরুলিয়া থেকে আসা ফুচু রাজবর। কচি কলাপাতা রঙের গোলগলা টি-শার্ট গায়ে একদম ধার থেকে ফুচু চলে আসেন মদনের পাশের চেয়ারে। সরে যান শান্তনু সেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ আপনাদের কী বলল? উত্তরে পেটানো চেহারার তরুণ ফুচু পুরুলিয়ার মেঠো ভাষায় জবাব দেন, ‘কিছু বলে নাই।’ এরপর প্রশ্ন করা হয় আপনাকে কি বিজেপি’তে যোগ দিতে জোর করা হয়েছে? সঙ্গে সঙ্গে ফুচুর জবাব, ‘না না! আমাকে কোনও জোর করা হয়নি।’ এরপরই মদনের মুখ চলে যায় ফুচুর কানের কাছে। তৎক্ষণাৎ ফুচুর উক্তি, ‘আমাকে জোর করে বিজেপি করতে বলা হয়।’ সাংবাদিকরা আরও প্রশ্ন করতে থাকলে দিন মজুর ফুচুর থেকে বেশি বিরক্ত হন মদন। প্রথমে মদন বলেন, ‘এরা গরিব মানুষ। দু’বেলা খাওয়ার ঠিক নেই। এরা কেন রাজনীতি করবে!’ সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে দু’বেলা খাওয়ার ঠিক না থাকা চারজনের হাতেই ঘাস্ফুলের পতাকা তুলে দিয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ালেন মদন এবং শান্তনু। স্লোগান দিলেন, ‘মমতা ব্যানার্জী জিন্দাবাদ। অভিষেক ব্যানার্জী জিন্দাবাদ।’
বিজেপি অবশ্য এই বিষয়টিকে ভাল করে নিচ্ছে না। রাহুল সিনহা বলেন, ‘ওঁদের জোর করে তুলে আনা হয়েছে। তৃণমূলের পতনের বীজ তৃণমূল নিজেই বপন করছে।’ বিজেপি’র এক নেতার কথায়, ‘কেনা বেচার রাজনীতি যদি বিজেপি শুরু করে তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবেন তো? তৃণমূল যাঁকে ৫ টকা দিয়ে কিনবে, বিজেপি তাঁকে ১৫ টাকা দিয়ে কিনতে পারে।’