দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই মডেল প্রায় আট বছরের পুরনো। চোদ্দর লোকসভা ভোটের আগে ২০১২ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশের পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল তাঁকে। তখন এমনই কৌশল করেছিলেন অমিত শাহ। উত্তরপ্রদেশকে বেশ কয়েকটি জোনে ভাগ করে, প্রতিটি জোনের দায়িত্ব দল বা সঙ্ঘের একজন বড় নেতাকে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন উত্তরপ্রদেশের বাইরের নেতা। কেন? কারণ, অমিত শাহ বলতেন, স্থানীয়দের কাছে যে সব ফাঁকফোঁকর গা সওয়া, একেবারেই গুরুত্ব পায় না, নতুন চোখে সেগুলোতেও নজর পড়ে। তা ছাড়া দলাদলি, পক্ষপাতের উর্ধ্বে দলের স্বার্থ দেখতে পারে সেই চোখ।
মঙ্গলবার বাংলাতেও সেই মডেলেরই ঘোষণা হল। ক’মাস বাদে বিধানসভা ভোট হবে বাংলায়। তার আগে বাংলাকে সাংগঠনিক ভাবে পাঁচটি জোনে ভাগ করে দেওয়া হল। আর সেই পাঁচটি জোনের দায়িত্ব দেওয়া হল, পাঁচ পাণ্ডবকে। যাঁরা দল বা সঙ্ঘের উচ্চপদে আগে থেকে রয়েছেন। অন্য রাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যে কারিগরের কাজ করেছেন। এবং অবশ্যই যাঁরা অমিত শাহর আস্থাভাজন।
সেই পাঁচ পাণ্ডব কারা?
সুনীল দেওধর, বিনোদ সোনকার, দুষ্মন্ত গৌতম, বিনোদ তাওরে ও হরিশ দ্বিবেদী-- এই পাঁচ জনকে ময়দানে নামাচ্ছে গেরুয়া শিবির। এঁদের মধ্যে সুনীল দেওধর ও বিনোদ তাওরে সর্বভারতীয় স্তরে খুব পরিচিত মুখ। চোদ্দর লোকসভা ভোটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হয়ে বারাণসিতে ভোটের দায়িত্বে ছিলেন সুনীল। পরে ত্রিপুরার দায়িত্বে ছিলেন। আর বিনোদ তাওরে হলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী। অন্যদিকে দুষ্মন্ত গৌতম মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড়ে পর্যবেক্ষক হিসাবে কাজ করেছেন।
জানা গিয়েছে, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া ও হুগলি নিয়ে তৈরি হচ্ছে একটি জোন। কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা মিলিয়ে কলকাতা জোন। জঙ্গলমহলের সবকটি জেলা নিয়ে পৃথক একটি জোন হিসেবে সাংগঠনিক কাজ চালাবে বিজেপি। গোটা উত্তরবঙ্গ একটি জোন এবং মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া ও দুই বর্ধমান নিয়ে তৈরি হয়েছে আরও একটি জোন ।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর জোনের দায়িত্বে থাকবেন সুনীল দেওধর। জঙ্গলমহলের দায়িত্বে বিনোদ সোনকার। উত্তরবঙ্গের দায়িত্বে হরিশ দ্বিবেদী। কলকাতা জোনের দায়িত্বে দুষ্মন্ত গৌতম। বিনোদ তাওরেকে বর্ধমানের দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে।
সুনীল দেওধর আগে ছিলেন ত্রিপুরার দায়িত্বে। সম্প্রতি তাঁকে সরিয়ে আন্ধ্রপ্রদেশের দায়িত্বে। ত্রিপুরার দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে বিনোদ সোনকরকে। প্রসঙ্গত, সামনে ত্রিপুরা বা অন্ধ্রে ভোট নেই। ফলে সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ দুই নেতাকেই বাংলায় পাঠিয়ে দিলেন অমিত শাহরা।
বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুথ স্তরের সংগঠনকে শক্তপোক্ত করতেই এই পাঁচ নেতা এবার আদা জল খেয়ে নামবেন। বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলবেন তাঁরা। সার্বিক ভাবে রাজ্য সংগঠন দেখবেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও অরবিন্দ মেনন। বাংলা বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্রচারের পুরোটাই দেখবেন সর্বভারতীয় আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্য।
অমিত শাহর পুরনো মডেলের বাস্তবায়ণ যদি হয়, তা হলে সম্ভবত ব্যাপারটা এখানেই থামবে না। বরং বলা যেতে পারে এটা প্রথম ধাপ। এর পর জেলাওয়াড়ি পর্যবেক্ষক নিয়োগ হবে। ভোটের মাস খানেক আগে দেখা যেতে পারে, ভিন রাজ্য থেকে অন্তত শ’খানেক মাঝারি মাপের নেতাকে এনে একটি বা দুটি করে বিধানসভা আসনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।