
শেষ আপডেট: 2 June 2022 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত অর্থ বছরে রাজ্যে জিএসটি (GST) খাতে আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আর্থিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র (Amit Mitra) বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আর্থিক নীতির কারণেই রাজ্য এই সাফল্য অর্জন করেছে। তাঁর দাবি, চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল-মে মাসেও এই ধারা অব্যাহত আছে।
আরও পড়ুন: ইলেকট্রিক গাড়ি কি বাড়বে দেশে? জিও বিপি, ক্যাস্ট্রোলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল এমজি মোটর
কেন তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জিএসটি আদায় বৃদ্ধির কৃতিত্ব দিচ্ছেন তার ব্যাখ্যা দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী (Amit Mitra) বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের হাতে নানা সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ অর্থ তুলে দিয়েছেন। মানুষ সেই টাকায় কেনাকাটা করেছে। ফলে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বাজারে লেনদেন বাড়লে জিএসটি খাতে আদায় বাড়বেই। তিনি বলেন, সাধারণ গরিব মানুষের হাতে টাকার জোগান থাকায় তারা কেনাকাটা করেছে। ফলে পরিষেবা, উৎপাদন ক্ষেত্র এবং কৃষি ক্ষেত্রে এর সুফল ফলেছে। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানি, জাপান সহ পৃথিবীর বহু দেশ এই নীতি নিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, তার প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী এই নীতির সুফল বুঝতে পারছেন না।
এদিন এই প্রসঙ্গেই কেন্দ্রীয় সরকারকে জিএসটি বাবদ আয়ের ভাগ বাটোয়ারা নিয়েও একহাত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ইন্টার স্টেট জিএসটি খাতে কেন্দ্রীয় সরকার ৫৪ হাজার কোটি টাকা গত অর্থবর্ষে আদায় করেছে। এই অর্থের অর্ধেকটা অর্থাৎ ২৭ হাজার কোটি রাজ্য সরকারগুলির পাওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার একটি টাকাও দিচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, এই কি সুস্থ কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নমুনা?
এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদারের উদ্দেশে অমিত মিত্র বলেন, বাংলার মানুষ, বাংলার সাংসদ হিসাবে ওঁর উচিত কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা বাংলা জিএসটি খাতে ভাল আদায় করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারও রাজ্যের প্রাপ্য মেটাক।
গত পরশু জিএসটি খাতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলির অনেক দিনের বকেয়া মিটিয়েছে। আগামী মাস থেকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্যগুলির পাওনা বন্ধ হয়ে যাবে। অমিত মিত্র বলেন, কলকাতায় রাজ্যগুলির অর্থমন্ত্রীদের ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির বৈঠকে তাঁরই সভাপতিত্বে ঠিক হয়েছিল, জিএসটি চালুর পর পাঁচ বছর পর্যন্ত কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে যাবে।
অমিত মিত্র বলেন, আরও অন্তত পাঁচ বছর এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, পাঁচ বছর ধরে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যখন হয়েছিল তখন আমাদের কারও জানা ছিল না যে কোভিড আসবে এবং তিনটি বছর আর্থিক কর্মকাণ্ড প্রবলভাবে ধাক্কা খাবে। করোনার ধাক্কা সামলাতে তাই ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও বছর পাঁচেক রাজ্যগুলিকে সহায়তা দেওয়া দরকার। অমিত মিত্র জানান তিনি এবং মুখ্যমন্ত্রী দু’জনেই এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখেছেন।