দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসা থামার নামগন্ধ নেই। মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। কিন্তু রাজধানীর মৃত্যুপুরী থেকেই প্রাণ বাঁচিয়ে ঘরে ফিরছেন বাংলার ১১জন শ্রমিক। তাঁরা প্রত্যেকেই মুর্শিদাবাদের নওদার বাসিন্দা। টানা চারদিন তাঁরা আতঙ্কে লুকিয়ে ছিলেন একটি গোডাউনে। সোমবার থেকে পেটে দানা পর্যন্ত পড়েনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে ট্রেনে তুলে দিয়েছেন লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা তথা বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। গোটা উদ্ধার অভিযানে অন্যতম ভূমিকা নিলেন টলিপাড়ার তরুণ ফিল্ম এডিটর অনির্বাণ মাইতি।
ঘটনাটা কী?
দ্য ওয়াল-এর তরফে অণির্বাণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একটি মেসেজ পান। আটকে থাকা এক শ্রমিক ফেসবুকে পোস্ট করে তাঁদের উদ্ধারের আবেদন জানান। সেইসঙ্গে ওই বার্তায় আটক শ্রমিক লেখেন, তাঁরা কিচ্ছু খাবার পাচ্ছেন না। একটি ফোন নম্বরও দেওয়া ছিল ওই বার্তায়।
https://twitter.com/adhirrcinc/status/1232884426637336577
এই বার্তা পেতেই অনির্বাণ যোগাযোগ করেন তাঁর দুই দিল্লিনিবাসী বন্ধু সংযুক্তা চক্রবর্তী ও পার্থ সাহার সঙ্গে। তাঁরা ওই নম্বরে ফোন করে জানতে পারেন, ওই ১১জন যেখানে কাজ করেন, সেই সংস্থার মালিক তাঁদের ডেকে নেন। বলেন, গোডাউনে লুকিয়ে থাকতে হবে। কোনও ভাবেই বাইরে যাওয়া যাবে না। তাঁরা মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা শুনেই দিল্লিতে থাকা সংযুক্তা ও পার্থ যোগাযোগ করেন অধীরবাবুর দফতরে। এদিকে কলকাতা থেকে অনির্বাণও ফোন করেন অধীর চৌধুরীর সেক্রেটারি প্রদীপ্ত রাজপণ্ডিতকে। ততক্ষণে গোটা ব্যাপার জেনে ফেলেছেন প্রাক্তন রেলপ্রতিমন্ত্রী। বলা হয়, ব্যবস্থা হবে।
এরপর অনির্বাণ যোগাযোগ করেন আটক শ্রমিকদের সঙ্গে। বলা হয়, পুলিশ ছাড়া অন্য কেউ ডাকলে বেরোতে না। তখনও তাঁরা কাতর আবেদন করেন, কিছু খাবার পাঠানোর। কিন্তু তা করা যায়নি। কারণ দিল্লির যে চার থানা এলাকায় দেখলেই গুলির নির্দেশ জারি করেছিল পুলিশ সেই রকম একটি এলাকাতেই তাঁরা আটকে ছিলেন।
শুধু এই ১১জনকে উদ্ধারই নয়। দিল্লির আর কোথাও বাংলার কেউ আটকে আছেন কিনা জানতে অধীরবাবুর অফিস থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে সেখানকার বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন ও দিল্লি প্রশাসনের সঙ্গে। বলা হয়েছে, কোনও খবর পেলেই তাঁর দফতরের হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করতে। উদ্ধার করার সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে।
গতকাল রাতে অধীরবাবু নিজে উপস্থিত থেকে এই ১১জনকে দিল্লি থেকে কলকাতাগামী ট্রেনে তুলে দিয়েছেন। আজ তাঁরা নামবেন কলকাতায়। তবে নওদা পৌঁছতে তাঁদের বৃহস্পতিবার মাঝরাত বা শুক্রবার ভোর হয়ে যাবে। স্বস্তির নিঃশ্বাস নওদার গ্রামে। আর আতঙ্কের ছাপ নিয়ে এই ১১জন বলছেন, থেমে যাক হিংসা। আবার ছন্দে ফিরুক রাজধানী।