দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'দুয়ারে সরকার' (duyaresarkar) প্রকল্পের দ্বিতীয় দফার বুধবার ছিল শেষদিন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) ঘোষণা অনুযায়ী 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' (lakshmi bhander) প্রকল্পের কাজও এই ক্যাম্পেই হয়েছে। আর দুয়ারে সরকারের শেষদিনের পরিসংখ্যান বলছে, সরকারি এই প্রকল্প সুপার ডুপার হিট (success)। যদিও নিন্দুকদের অনেকে বলছেন, দুয়ারে সরকারের এই পরিসংখ্যান বুঝিয়ে দিচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার দারিদ্রের ছবি। তাঁদের বক্তব্য, বিপুল অংশের মানুষের আর্থিক সঙ্গতি নেই বলেই তাঁরা সামান্য অর্থের জন্য ক্যাম্পে লাইন দিয়েছেন। যদিও এসবে কান দিচ্ছেনা নবান্ন। রাজ্য সরকারের এক আধিকারিকের বক্তব্য, দুয়ারে সরকারে শুধুমাত্র লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলআপ হয়নি। এখানে স্বাস্থ্যসাথী, কাস্ট সার্টিফিকেট, খাদ্যসাথীর মতো একাধিক প্রকল্প নাম নথিভুক্তকরণ হয়েছে।
বুধবারের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে 'দুয়ারে সরকার'- ক্যাম্পে গেছেন রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট সংখ্যাটা প্রায় ৪ কোটি। বুধবার সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গেছেন ৩ কোটি ৫৬ লক্ষ ৮৩ হাজার ৯৩৭ জন। শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই জেলার মোট জনসংখ্যার অর্ধেক গেছেন দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে। সংখ্যাটা ৪২ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৬২ জন। এখানে বলে রাখা ভাল এই জেলায় মোট জনসংখ্যা ৮১ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৬১ জন।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, কলকাতার লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিজস্ব আর্থিক কর্মকাণ্ড কম। বিস্তীর্ণ সুন্দরবন এলাকায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। বাটানগর,। বিরলাপুরের মত জায়গা শিল্পশূন্য।। তার উপর বছর বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাষবাসের অবস্থাও ভাল নয়। আইলা, আমফান, ইয়াসের জেরে রাস্তাঘাট সহ বিপুল পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। বিপর্যস্ত ছোট কলকারখানা, ব্যবসা ইত্যাদি। তারফলেই কলকাতার লাগোয়া জেলা হলেও দারিদ্রের অভিঘাত সেখানেই বেশি। সরকারের দুয়ারে হত্যে দেওয়া ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প কম।
গত ১৬ অগস্ট থেকে 'দুয়ারে সরকার'-এর দ্বিতীয় দফা শুরু হয়েছিল। এর আগে প্রথম দফায় দুয়ারে সরকার ক্যাম্প হয়েছে। মনে করা হচ্ছে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের জনপ্রিয়তার কারণেই এই দফায় 'দুয়ারে সরকার'ও আগের চেয়ে এত জনপ্রিয়। 'দুয়ারে সরকার'-এর প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষই গিয়েছেন 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের সুবিধা নিতে।
'দুয়ারে সরকার' প্রকল্পের এই বিপুল সাফল্যে খুশি নবান্ন। দেখা গেছে, 'দুয়ারে সরকার'-এর জনপ্রিয়তার বিচারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর ও হুগলি। আর এই তালিকায় সব শেষে রয়েছে কলকাতা। এদিন অর্থাৎ ক্যাম্পের শেষদিন কলকাতায় 'দুয়ারে সরকার' প্রকল্পের ক্যাম্পে গিয়েছেন ৮ লক্ষ ৭০ হাজার ৩৬৩ জন মানুষ। যা কলকাতার মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মত।
দেখা যাচ্ছে, 'দুয়ারে সরকার' প্রকল্পের ক্যাম্পে এখনও পর্যন্ত চারটি প্রকল্প সবচেয়ে চেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' ছাড়াও রয়েছে 'স্বাস্থ্য সাথী', 'খাদ্য সাথী'। এছাড়া কাস্ট সার্টিফিকেটের কাজেও অনেকে 'দুয়ারে সরকার'-এর ক্যাম্পে গিয়েছেন। দুয়ারে সরকার শেষ হতে না হতেই বুধবার থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে মমতার স্বপ্নের প্রকল্প দুয়ারে রেশনের মহড়া।