দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন ভবিতব্যই ছিল!
রবিবাসরীয় দুপুরে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন কুণাল ঘোষ। যে বৈঠক থেকে কুণাল কৈলাস বিজয়বর্গীয়র উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ঠুকে বলেছিলেন, “হিম্মত থাকে তো ভাইপোর নাম বলুন।” এও বলেছিলেন, যদি এক বাপের বেটা হন, তা হলে বলুন কাকে ভাইপো বলছেন!”
কুণালের সেই সাংবাদিক বৈঠক শেষ হতেই দেখা গেল সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গেছে পুরনো ফুটেজে। বুঝতে বাকি নেই তা বিজেপিই করিয়েছে। এবং তার নেতৃত্ব দিয়েছেন, সর্বভারতীয় বিজেপির কমিউনিকেশনের দায়িত্বে থাকা অমিত মালব্য। কৈলাসের সঙ্গে সদ্য অমিতকে বাংলার সহ পর্যবেক্ষক করেছেন নাড্ডা-অমিত শাহরা।
কুণাল প্রসঙ্গে অমিত নিজেই টুইট করেছেন দুটো ফুটেজ। তার একটিতে দেখা যাচ্ছে, চিটফান্ড কাণ্ডে জেল হেফাজতে থাকা কুণালকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হচ্ছে, আর ঝুল দাড়ি গালে কুণাল যতদূর সম্ভব চিৎকার করে বলছেন, “চিটফান্ডের দয়ায় যারা ক্ষমতায় এসেছে...।” অন্য একটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কুণাল বলছেন, "সারদা মিডিয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা যদি সবথেকে বেশি কারও কাছে পৌঁছে থাকে তা হলে তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
https://twitter.com/amitmalviya/status/1330453160645812228
অমিত মালব্য এ সব টুইট করা মানে বিজেপি কর্মীদের বলা যে তোমরাও এগুলো ছড়িয়ে দাও। দিনের শেষে তাই হয়েছে।
তবে শুধু অমিত বা বিজেপি কেন, ইদানীং দেখা গিয়েছে, কুণাল তৃণমূলের পক্ষ নিয়ে কোনও বিতর্কে অংশ নিলেই তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো সিপিএম বিধায়করা ওই পুরনো কথাই টেনে আনেন। রাজনীতিতে এটাই দস্তুর। সবাই তা করে।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কুণালকে মুখপাত্র করলে এ সবও সামলাতে হতে পারে—এ কথা কি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব ভাবেননি। অনেকের মতে, নিশ্চয়ই তা হয়তো ভেবেছিলেন। কিন্তু হয়তো তাঁরা ভেবেছিলেন, এই যে কুণাল এদিন ‘অকুতোভয়ের’ মতো ‘এক বাপের বেটা’, ‘ভাগ মুকুল ভাগের মতো’, অমিত শাহ-জয় শাহ ইত্যাদি বলে যাচ্ছিলেন, তা অন্য কাউকে দিয়ে হবে না। এক সময়ে সাংবাদিকতা করেছেন কুণাল। তাঁর লেখা ও কথা বলার বাঁধুনিও রয়েছে।
কুণালের কাছে সবটাই হয়তো উইন-উইন। চিটফান্ড কাণ্ডে সাড়ে তিন বছর জেলে থাকতে হয়েছে কুণালকে। তার পর জামিন পাওয়ার পর থেকেই প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়া চেষ্টা শুরু করেছিলেন তিনি। আজ ‘ভাগ মুকুল ভাগ’ বলে কুণাল কটাক্ষ করছেন ঠিকই, কিন্তু এই প্রাসঙ্গিকতার জন্যই ২০১৭ সালে মুকুল রায়কে দিয়ে তাঁর পাড়ার পুজোর উদ্বোধন করিয়েছিলেন কুণাল। সে সময়ে মুকুলবাবু তৃণমূল ছাড়ব ছাড়ব করছেন। শুধু তা নয়, কিছুদিন আগেও সল্টলেকে মুকুলবাবুর ফ্ল্যাটে কুণাল কোনও প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও খবর।
https://twitter.com/BJP4Bengal/status/1330461610272387073
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, নিন্দুকেরা যাই বলুন, কুণালের মধ্যে একটা লড়াকু মনোভাব রয়েছে। এবং শেষ পর্যন্ত তৃণমূলে প্রাসঙ্গিকতা আদায় করতেও সফল তিনি। কাকলি ঘোষদস্তিদার, ব্রাত্য বসুর মতোই তিনিও এখন দলের মুখপাত্র। তবে হ্যাঁ, পুরোনো ফুটেজ হয়তো ভূতের মতো তাড়া করবেই। কারণ, রাজনীতিতে শব্দই তো ব্রহ্ম! তাঁদের মতে, সিদ্ধার্থনাথ সিংহের 'ভাগ মুকুল ভাগ'ও তো তাড়া করছে বিজেপিকে। করছে না!