দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমফান দুর্নীতি নিয়ে গত ১ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট কম্পট্রোলার অফ অডিটর জেনারেলকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকার আর্জি জানাল, যাতে ওই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা হয়।
ত্রাণের টাকা কোথায় কোথায় এবং কার কার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, কারা কারা টাকা পেয়েছেন তার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। আদালত এও বলেছে, দুর্নীতি হয়ে থাকলে কারা এবং কোন কোন সরকারি আধিকারিক যুক্ত তাও জানাতে হবে এই রিপোর্টে।
প্রসঙ্গত, গতকালই এই তদন্তকে ‘নর্মাল ব্যাপার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, ক্যাগ রিপর্ট দেয় তারপর তা নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা হয়। তবে এদিন নবান্নের তরফে কলকাতা হাইকোর্টে এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ও সরকার দু’রকম বলছে। মানে নিশ্চয়ই চুরি হয়েছে। তাই চুরি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছে। সবাই জানে এই সরকার চোরেদের সরকার। আর তাদের সর্দার কে!”
বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “নবান্নে সর্বদল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কারা কারা আমফানের টাকা পেয়েছে সেই নামের তালিকা বিডিও অফিসে টাঙিয়ে দেবেন। কিন্তু সেসব কিছুই হয়নি। এতেই স্পষ্ট, দুর্গত মানুষের টাকা কাদের পকেটে ঢুকেছে।”
বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ আগেই বলেছিলেন, “ক্যাগ যদি তদন্ত করে দিদিমণির সরকারের এত ভয় কীসের? তার মানে নিশ্চয়ই ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। আমরা বলছি কুছ নেহি, পুরা ডালহি কালা হ্যায়।”
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তো রোজই জনসভায় বলছেন, “যাঁদের ঘরে গরু ছিল না পঞ্চায়েতের সেই তৃণমূলের নেতারা গরু মরে গেছে বলে টাকা নিয়েছে।” এদিন কোলাঘাট থেকে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও আমফানের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন।