
শেষ আপডেট: 25 April 2023 15:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অমর্ত্য সেনের জমি বিবাদ (Amartya Sen Land Dispute) থামার নাম নেই। বিশ্বভারতীর (Visva Bharati University) নোটিস, চিঠি, পাল্টা চিঠি লেগেই আছে। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। মঙ্গলবার পুরুলিয়ায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘অমর্ত্য সেনকে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে তা বাঙালি সহ্য করবে না।’
মঙ্গলবার পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অমর্ত্য সেন একজন বাঙালি, শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মানুষ। বিজেপির চিন্তাভাবনার বিপরীত মেরুতে অবস্থান তাঁর। তাই তাঁকে নানাভাবে বিড়ম্বনায় ফেলার চেষ্টা হবেই।’ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, বাঙালি, শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী এবং বিশ্বে পরিচিত, এমন মানুষদের বিজেপি গ্রহণ করতে পারে না।
প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ যেভাবে অমর্ত্যের জমি কাড়তে তৎপর হয়ে উঠেছে তা জেনেও এই জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আচার্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দূরে থাক, কেন্দ্রের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করেননি। এমনকী কেন্দ্রের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার স্বয়ং বীরভূমের মানুষ এবং সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও তিনিও কার্যত নীরব। রাজের বিজেপি নেতাও বিষয়টিকে বিশ্বভারতীর অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
বাংলার শিক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না বহিরাগত কোনও শক্তি এসে, এখানকার এজেন্টদের মাধ্যমে অমর্ত্য সেনকে হেনস্থা করবে, আর বাঙালি সেটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে, এটা হতে পারে না।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অমর্ত্য সেনকে এমনভাবে বারবার উচ্ছেদ নোটিস না পাঠিয়ে, বিশ্বভারতী তো আদালতে যেতে পারে। তা না করে কেন এমন করছে?’
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অমর্ত্যের শান্তিনিকেতনের বাড়ি ‘প্রতীচী’-র গেটের বাইরে উচ্ছেদ নোটিস লাগিয়ে দেয়। যা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। এই অবস্থায় তাঁর অনুপস্থিতিতে শান্তিনিকেতনের বাড়ি ও জমি বেদখল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তারপরই বিদেশ থেকে অমর্ত্য সেন চিঠি দেন। সেই চিঠির পাল্টা হিসেবে অমর্ত্য সেনকে ‘বাড়তি’ জমি ফিরিয়ে দিতে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বিশ্বভারতী। তারপরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ব্রাত্যর নিশানায় ফের রাজ্যপাল, ‘কোনও পালের কথায় বিশ্ববিদ্যালয় চলবে না’