দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দেড় বছর ধরে রাজ্যে বন্ধ স্কুল কলেজ। ইতিমধ্যেই ছাত্রছাত্রী মহলে এবিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। তাদের-ই একাংশের দাবি, অবিলম্বে সমস্ত ছাত্র ছাত্রী এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভ্যাকসিন দিয়ে ক্যাম্পাস খুলতে হবে। তাদের বক্তব্য, এত দিন ধরে টানা ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যা তৈরি হয়ে যাচ্ছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থ রায়ের বক্তব্য, 'গত মার্চ মাস থেকেই যাদবপুরের কর্তৃপক্ষ সরকারকে চিঠি দিচ্ছে যাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যাদবপুরের ক্যাম্পাসেও ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প করা হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম সাড়াই মেলেনি। শেষে জুন মাসে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আমরা জুটার পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে একটা ভ্যাক্সিনেশনের ব্যবস্থা করি। তারপরে জুলাই মাসে এসে সরকারের পক্ষ থেকে জিজ্ঞেস করা হয় যে আমরা সরকারিভাবে ক্যাম্পাসে ভ্যাক্সিনেশন করাতে চাই কি না।' তাঁর মতে, 'সরকারের যাদবপুর বিষয় এমন দায়সারা আচরণ বাঞ্ছনীয় নয়।' তিনি আরও জানান, "আমরা জুটার পক্ষ থেকে এই দাবি বারেবারই রাখছি এবং বলছি ক্যাম্পাস খুলতে হবে"।
গত এপ্রিল মাসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী ব্যানার্জী জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ উর্ধ্ব সমস্ত কর্মচারীকে ভ্যাক্সিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এবং সেই মতো রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ এবং বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজকে ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে শহরের একটি নামজাদা কলেজের অধ্যাপকের বক্তব্য, ক্যাম্পাসে ভ্যাকসিন দেওয়ার কোন খবর তাঁদের কেউ দেয়নি
প্রেসিডেন্সির এসএফআইয়ের নেত্রী মিমোসা ঘড়াই বলেন, "আমাদের সংগঠন বরাবরই সকলের বিনামূল্যে ভ্যাক্সিনেশনের দাবি রেখেছে। আজও রাখছে। তবে আমাদের প্রেসিডেন্সিতে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো তেমন কোন উদ্যোগের কথা জানা যাচ্ছে না।' জয়পুরিয়া কলেজের ছাত্র অয়ন মণ্ডল জানাচ্ছে, "ভ্যাক্সিনেশনের অপেক্ষায় আর বসে থাকা যায় না। কবে সবাই ভ্যাকসিন পাবে তারপর কলেজ খুলবে এমন ভাবতে গেলে আর কলেজ খুলবেই না। এখন-ই সরকারের উচিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া।'
তবে এরই মধ্যে ২৩ তারিখের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, করোনার তৃতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকার ধারণ না করলে পুজো, দেওয়ালি, প্রয়োজনে ভাইফোঁটার পরে স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া হবে। তবে এতেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না ছাত্র ছাত্রীরা। বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্টের মুখপাত্র তথাগত রায়চৌধুরীর মতে, 'এসব সরকারের টালবাহানা, তারা কোনমতেই স্কুল কলেজ খুলতে চাইছে না। এই অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে সরকার সমাজের একাংশকে শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে।' তিনি আরও বলেন, 'ভ্যাকসিন কেউ চাইলে দিতে পারে, আবার নাও দিতে পারে। এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। স্কুল কলেজ যেতে হলে ভ্যাকসিন দিতেই হবে এই দাবি অযৌক্তিক।'