দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে ও বাংলায় এ বছর ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা হয়তো তুলনামূলক ভাবে কম, কিন্তু ডেঙ্গি থেকে জটিলতা ও মৃত্যুর হার বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডেঙ্গি ভাইরাসের চারটি স্ট্রেনই এক সঙ্গে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। আর তা হলে ডেঙ্গি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। মৃত্যুও হতে পারে রোগীর। আর ঘটছেও সেটাই। শুধু তাই নয়, ডেঙ্গির সঙ্গেই সংক্রমণ হতে পারে ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ারও।
ইন্ডিযান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ জানিয়েছে, এ বছর ডেঙ্গির তিন নম্বর স্ট্রেন ডেন ৩ সবচেয়ে সক্রিয়। বিশেষত দিল্লিতে। ডেঙ্গির চার রকম সেরোটাইপ য়ে একসঙ্গে ঘুরতে পারে ও সংক্রমণ ঘটাতে পারে তা আগের কযেক বছরের গবেষণাতেও দেখা গেছে। এই গবেষণা ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইনফেকশাস ডিজ়িসেও প্রকাশিত হয়েছে।
ওই গবেষণায় দেখা গেছে দেশে ডেঙ্গির সংক্রমণ সবচেযে বেড়েছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ম্যালেরিয়া রিসার্চ-এর গবেষক দীপালি সাভারগাঁওকর বলেছেন, ডেঙ্গি আক্রান্তের ৬০টি রক্তের নমুনায় ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ডেঙ্গির একাধিক স্ট্রেন একসঙ্গে সংক্রমণ ঘটিয়েছে।এমনকী ডেঙ্গির সঙ্গে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণও পাওয়া গেছে।
ওই গবেষক বলেছেন, দিল্লি হলো ডেঙ্গিপ্রবণ জায়গা। সেখানে একাধিক সেরোটাইপের একসঙ্গে সংক্রমণ আজকাল ঘনঘন দেখা যাচ্ছে। এটা উদ্বেগের বিষয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে নজরদারি প্রয়োজন।ডেঙ্গি কোন ঋতুতে বাড়ছে, বর্ষার পরেই সবচেয়ে বেশি বাড়ছে কি না, কটা স্ট্রেন একসাথে আক্রমণ করছে, এ সব ভালো করে দেখতে হবে, যাতে ডেঙ্গি প্রতিরোধ কর্মসূচি সে ভাবে তৈরি করা যায়।
বিশ্বের অন্তত ১২৮টি দেশে ডেঙ্গি ভাইরাস খুব সক্রিয়। বিভিন্ন দেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে বলে সংক্রমণও এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
গবেষকদের বক্তব্য, একটি মশা, যে একটি ধরণের ডেঙ্গি ভাইরাস বহন করছে সে যদি এমন কাউকে কামড়ায় যার দেহে আগে থেকেই ডেঙ্গির অন্য একটি সেরোটাইপ রয়েছে, তা হলেই বিপদ। কারণ, সেই মশাটি যখন দ্বিতীয় কারওকে কামড়াবে, তখন তার দেহে দুই রকম স্ট্রেনই প্রবেশ করবে। এই ভাবেই কো-ইনফেকশন বাড়তে থাকে। তার সঙ্গে ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া জুড়ে গেলে বাড়ে বিপদ।