দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইল গেমে (Mobile Game) আসক্ত তরুণ প্রজন্মের একাংশ। তার পরিণাম দিনদিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। সোমবার আলিপুরদুয়ারের এক কিশোর এই মোবাইল আসক্তির মাসুল দিল নিজের জীবন দিয়ে!
আলিপুরদুয়ারের ঘাগড়া-সোনালিপাট এলাকার অন্যান্য অনেক পরিবারের মতোই এই পরিবারটিতেও নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। মা কাকলি রায় একমাত্র রোজগেরে। তিনি লোকের বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে যে দুই পয়সা উপার্জন করেন তা দিয়েই সংসার চলত। এদিকে নবম শ্রেণীতে পড়া একমাত্র ছেলে সাগর রায়ের মোবাইল ফোনের নেশা ক্রমশই বেড়ে চলেছিল। গত দু'বছর ধরে করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় এই নেশা আরও বেড়ে যায়। আগে খাওয়া-দাওয়া ভুলে পাবজি খেলত ওই কিশোর। সেটি নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ফ্রি ফায়ার গেমে মজে সে।
দু'দিন আগে হঠাৎ করেই সাগরের মোবাইলের নেট ব্যালেন্স শেষ হয় যায়। মায়ের কাছে মোবাইলে নেট কার্ড ভরানোর টাকা চায় সে। এদিকে মাসের শেষ হওয়ায় মায়ের হাতে টাকা ছিল না। তাই কদিন অপেক্ষা করে যেতে বলেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি মোবাইল গেমের নেশা ওই কিশোরকে এতটাই পেয়ে বসেছিল যে সে নেট কার্ড ভরানোর জন্য অপেক্ষা করতে চায়নি। এই নিয়ে বাড়িতে অশান্তি শুরু হয়। তখন বাড়িতে থাকা রেশনের চাল-গম বিক্রি করে সেই টাকায় নেট কার্ড ভরাতে বলেন মা। প্রতিবেশীদের দাবি সাগর অনেক কম দামে চাল-গম বিক্রি করে দেওয়ায় মা বকাবকি করেন। এতেই অভিমান হয় তার। চরম সিদ্ধান্ত নেয় সে। ঘন্টাখানেক পর তার এক সম্পর্কিত দাদা ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা মোবাইল গেমগুলি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। না হলে তরুণ প্রজন্ম আগামী দিনে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।