
শেষ আপডেট: 6 July 2023 07:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিবসেনা, এনসিপির পর মহারাষ্ট্রে বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য কংগ্রেসকে ভাঙানো। গত রবিবার অজিত পাওয়ারের বিদ্রোহের পর থেকেই এই সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছিল। কংগ্রেস মহলের খবর, দলের বেশ কিছু বিধায়কের সঙ্গে বহুদিন ধরেই কথা চালাচ্ছে ইডি, সিবিআইয়ের আধিকারিকেরা। কিন্তু এখনও রাজি করানো যায়নি কাউকে। তবু বিজেপির ফাঁদ এড়াতে কংগ্রেস হাইকমান্ড আগামী সপ্তাহে শীর্ষ নেতাদের মহারাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে।
এনসিপিতে ভাঙনের পর মহারাষ্ট্র বিধানসভায় কংগ্রেস এখন প্রধান বিরোধী দল। শিবসেনা এবং এনসিপি-তে ভাঙনের পর ভোট শতাংশের হারেও কংগ্রেসের এগিয়ে থাকার কথা। যদিও দল ঘোষণা করেছে বিরোধী জোটের মুখ থাকবেন শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরেই।
তবে খাতায় কলমে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দুই আঞ্চলিক দলে ভাঙনের জেরে বিরোধী শিবিরে কংগ্রেস অনেকদিন পর চালকের আসনে। আর এই কারণেই মহারাষ্ট্রে বিজেপি দ্রুত হাত শিবিরকে ভাঙার চেষ্টা করবে ধরে নিচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ হল এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে অজিত পাওয়ারকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া এবং জোটের শরিক করা নিয়ে শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর মতো বিজেপির নিচুতলাতেও অসন্তোষের ঝড় বইছে। একান্তে অনেক বিধায়ক ও সাংসদ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলছেন, এভাবে শরিক বাড়িয়ে দলের লাভ কী? তাদের আশঙ্কা, শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগ বাটোয়ারা করতে গিয়ে অনুগামীদের সমর্থন হারাতে হতে পারে।
মহারাষ্ট্রে শিবসেনাই ছিল বিজেপির দীর্ঘদিনের সহযোগী। এই দুই দলের ভোটারদের মধ্যেও বোঝাপড়া ছিল। ফলে শিবসেনার প্রার্থীকে বিজেপি সমর্থকরা জিতিয়ে আনতে ঝাঁপিয়ে পড়ত। বিজেপির ক্ষেত্রে একইভাবে শামিল হত শিবসেনার লোকেরা।
কিন্তু এনসিপির সঙ্গে বিজেপির সেই সম্পর্ক নয়। ২০১৪-র বিধানসভা ভোটের পর দুই দলের বোঝাপড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও তা স্থায়ী হয়নি। ২০১৯-এর লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের আগেও কথা হয় দু’ দলের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যান শরদ পাওয়ার।
বিজেপির নিচুতলায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অজিতের নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র সঙ্গে বিজেপি আসন ভাগাভাগি করলে দু দলের সমর্থকেরা তাতে সায় দেবে তো? এক দলের ভোটার আর এক দলকে ভোট দেবেন তো? কারণ, নিচুতলায় এনসিপি-র সঙ্গে বিজেপির সমর্থকদের সম্পর্ক মোটেই ভাল নয়। বরং সবচেয়ে খারাপ শরদের পার্টির সঙ্গেই।
নিচুতলার কর্মী-সমর্থক-বিধায়কদের এই উদ্বেগের কথা মানছেন মহারাষ্ট্র বিজেপির প্রধান মুখ উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ। তাঁর বক্তব্য, ‘দলের কৌশলের সবটা নিচুতলায় খোলসা করে বলা যায় না। আমরা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছি।’
ফড়ণবিশ দলের যে পরিকল্পনার কথা বলছেন তা হল, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে মহারাষ্ট্রের ৪৮ আসনের মধ্যে ৪০টি দখল নেওয়া। গত ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ২২টি। এবার ৪০ আসন টার্গেট করলেও সেই সংখ্যার মধ্যে বিজেপি ছাড়াও শিবসেনার শিন্ডে এবং এনসিপির অজিত গোষ্ঠীর আসন ধরা আছে। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রের চলতি রাজনীতির মূলে আছে ২০২৪-এর অঙ্ক। মহারাষ্ট্র বিজেপির সভাপতি চন্দ্রকান্ত বাওয়ানকুলের বক্তব্য, ‘রাজনীতিতে আশু লক্ষ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দলের স্বার্থেই ২০২৪-এ নরেন্দ্র মোদীকে ফের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসানো জরুরি। আর বিজেপি জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে কোনও কিছুকে স্থান দেয় না।’ তাঁর দাবি, ‘বিজেপির ভোটাররা রাজনীতি সচেতন দেশভক্ত মানুষ। তাঁরা দলের প্রয়োজনটা বোঝেন।’
যদিও নেতাদের কথায় অসন্তোষে লাগাম দেওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, অজিত গোষ্ঠীকে আসন ছাড়তে গয়ে বিজেপির একাধিক সাংসদ এবার টিকিট পাবেন না। এই সম্ভাবনা প্রকট হতে দলে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
একই সমস্যায় পড়েছেন মুখ্যমমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও। তার দলও এনসিপির সঙ্গে আসন বোঝাপড়ায় যেতে নারাজ। ২০১৯-এ শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোট সরকার গড়লেও এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তিন দল কোনও নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ পায়নি। এক দুটি উপ নির্বাচনে বোঝাপড়া করে লড়াই করে তিন দল। লোকসভা ভোটে এনসিপির অজিত গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলানো নিয়ে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে শিন্ডের দলে। তিনি বুধবার দলীয় বৈঠকে ব্যাখ্যা দেন, এনসিপি-র অজিত গোষ্ঠীর সঙ্গে ভোটের বোঝাপড়া হবে বিজেপির, শিবসেনার নয়। কিন্তু দলের অন্দরে দাবি উঠেছে, এনসিপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে দলকে।
তবে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে পদ্ম শিবিরই। দলের একাংশের বক্তব্য, এনসিপি-কে ভাঙিয়ে মিছিমিছি আসন বোঝাপড়ার রাস্তায় হেঁটেছে দল। শরদের পার্টিকে বিজেপি একাই মোকাবিলায় সক্ষম বিগত নির্বাচনগুলিতেই তা প্রমাণিত। যেমন গত লোকসভা ভোটে আটটি আসনে বিজেপি ও এনসিপির সরাসরি লড়াই হয়েছিল। বিজেপি তারমধ্যে সাতটিতে জেতে। এনসিপি একমাত্র শরদ পাওয়ারের বারামতী আসনটি বিজেপির থাবা থেকে বাঁচাতে পেরেছিল।
লোকসভা ভোটের কয়েক মাস পর হওয়া বিধানসভা ভোটে বিজেপি-এনসিপি দ্বিমুখী লড়াই হয় ৫৬টি আসনে। বিজেপি জেতে ৩৪টিতে। এনসিপি পায় ২২টি আসন। এখন অজিত পাওয়ারের এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতার পর সমর্থকেরা তা না মানলে ক্ষতির সম্ভাবনা ভাবিয়ে তুলেছে দলকে।
মুখে প্রস্রাব করেন বিজেপি নেতা, ‘ক্ষমা চেয়ে’ আদিবাসী শ্রমিকের পদসেবা মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজের