দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২ মে তখনও সন্ধে হয়নি। সব কেন্দ্রের ফলাফলও পুরোপুরি ঘোষণা হয়নি বাংলায়। কিন্তু দিগন্ত রেখায় এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বাংলায় তৃতীয়বার সরকার গড়তে চলেছে তৃণমূল। ভোট কৌশলী হিসেবে তাঁর হিসেবও মিলে গিয়েছে হুবহু।
সেই তিনি প্রশান্ত কিশোর জানিয়ে দিয়েছিলেন, আর এই কাজ করবেন না। অনেক হয়েছে। এবার অন্য কিছু করবেন তিনি। এই কাজ থেকে সাময়িক বিশ্রাম নেবেন।
তারপর জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাহলে কী হবে? পিকের সংস্থার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের গাঁটছড়া কি খুলে যাবে? কিন্তু দেখা গেল ভাঙা তো দূরের কথা। পিকে-হীন আইপ্যাকের সঙ্গে আরও বড় আকারে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সেরে ফেলল তৃণমূল কংগ্রেস।
২০২৬ পর্যন্ত তৃণমূলের হয়ে কাজ করবে আইপ্যাক। প্রশান্ত কিশোর আইপ্যাক ছাড়ার পর ন’জনের টিম গঠন করেছে সংস্থা। তাঁরাই বিভিন্ন রাজ্যের ক্লায়েন্টদের ভোট কৌশল নির্ধারণ করবেন। জানা গিয়েছে, ২০২৪-এর লোকসভা, ২০২৬-এর বিধানসভা তো বটেই, অন্যান্য রাজ্যের ভোটেও তৃণমূলের হয়ে কাজ করবে আইপ্যাক।
সম্প্রতি দলে সাংগঠনিক রদবদল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বে আসার পর অভিষেক জানিয়েছিলেন, সারা দেশে সংগঠন বিস্তার করাই তাঁর এখন লক্ষ্য। তা ছাড়া আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এও জানিয়েছিলেন, যে রাজ্যে তৃণমূল ইউনিট খুলবে সেখানে দু’চারটে বিধায়ক জেতার জন্য যাবে না। সরকার গড়ার জন্যই লড়বে। হতে পারে সে কারণেই আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তিতে অন্যান্য রাজ্যের ভোটে তৃণমূলের হয়ে কাজ করার ক্লজটি উপরের দিকেই রয়েছে।
লোকসভা ভোটে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর প্রশান্ত কিশোরকে এনেছিলেন অভিষেকই। তারপর তাঁদের নিয়োগ করে তৃণমূল। একথা ঠিক, বিজেপির আগ্রাসী প্রচারের সামনে যখন তৃণমূলের অনেক পোড়খাওয়া নেতাও বুঝতে পারছিলেন না কী হবে একুশে, তখন প্রশান্ত নিজের এক কথা গত ছ’মাস ধরে বলে গিয়েছেন। তাঁর মোদ্দা কথা ছিল, তৃণমূল দুই তৃতীয়াংশ আসন পাবে এবং বিজেপি তিন অঙ্ক ছোঁবে না। পিকে এও বলেছিলেন, তাঁর হিসেব না মিললে এই কাজটাই ছেড়ে দেবেন তিনি।
দেখা গেল হিসেব পুরোপুরি মিলিয়ে দেওয়ার পরেও ব্রেক নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর সংস্থা জুড়েই রইল তৃণমূলের সঙ্গে।