দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাসক দলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার দেখা করলেও, ২১ জুলাই শহীদ সমাবেশের মঞ্চে তৃণমূলে যোগ দেবেন না দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী ওরফে ডালুবাবু। বরং পার্থবাবুর নাকতলার বাড়ি থেকে বেরনোর ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই ডিগবাজি খেলেন তিনি। সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বকে ডালুবাবু জানিয়ে দিলেন, তিনি কংগ্রেসেই থাকছেন। কংগ্রেস ছেড়ে যাবেন না।
আরও পড়ুন: চার্জশিটে ভারতী ঘোষকে ফেরার দেখাল সিআইডি
এ কথাটা দলের হাইকম্যান্ডকে আরও স্পষ্ট করে জানাতে আজ শুক্রবার, সনিয়া গান্ধীর কাছে সময় চেয়েছেন ডালুবাবু। হতে পারে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার পর দিল্লিতে সাংবাদিকদেরও তা জানাবেন তিনি।
মালদহের প্রবাদপ্রতীম প্রয়াত কংগ্রেস নেতা বরকত গণি খান চৌধুরীর এই ভাইটিকে নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক নাটকটি শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকালে। ফরাক্কার কংগ্রেস বিধায়ক মাইনুল হক সক্কাল সক্কাল ডালুবাবুকে নিয়ে যান তৃণমূলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে মাইনুলের আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা।
সূত্রের মতে, তৃণমূলনেত্রীর কাছে নিজের নম্বর বাড়াতেই মাইনুল, ডালুবাবুকে নিয়ে পার্থর বাড়ি যান। কেননা মাইনুলের নিজের এলাকা ফরাক্কায় তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাঁটা পড়েছে। পঞ্চায়েত ভোটে দেখা গিয়েছে, এমনিতেই তৃণমূল সেখানে মজবুত ভিত গড়ে ভাল ফল করেছে। ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে মাইনুলের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা। তাই ইদানীং তৃণমূলনেত্রীর কাছে তাঁর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন মাইনুল।
রাজনৈতিক সূত্রের কথায়, ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই পার্থর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ডালুবাবু। কিন্তু তিনি জানতেন না, তৃণমূলের মহা সচিব আগে থেকেই সংবাদমাধ্যমকে ডেকে রাখবেন। পার্থবাবুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের দেখে অস্বস্তিতে পড়ে যান কংগ্রেস সাংসদ। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে জোট করার ব্যাপারে কথা বলতে এসেছিলেন। যদিও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কথায়, ডালুবাবুকে সেই এক্তিয়ার দল দেয়নি।
বাস্তব হল, মাস খানেক আগেই তৃণমূলের তরফে মালদহের পর্যবেক্ষক তথা পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করেছিলেন ডালুবাবু। শুভেন্দুকে তিনি তখন বলেছিলেন, লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হলে তিনি কংগ্রেসেই থাকবেন। জোট না হলে তিনি তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে লড়তে চান। কিন্তু শুভেন্দু ডালুবাবুকে জানিয়ে দেন, কার সঙ্গে কী জোট হবে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবেন। তাছাড়া দক্ষিণ মালদহে তৃণমূলের এখন যা সাংগঠনিক শক্তি তাতে দিদি যাঁকে প্রার্থী করবেন, তিনিই জিতবেন। তবে ওই বৈঠকের কথা তৃণমূলনেত্রী ছাড়া পাঁচ কান করেননি শুভেন্দু।
আরও পড়ুন: মদন-বাণে ফুচু আজ তৃণমূলে
কিন্তু পার্থবাবুর সঙ্গে তাঁর বৃহস্পতিবারের বৈঠকের কথা জানাজানি হতেই চাপে পড়ে গিয়েছেন ডালু। এতটাই চাপ যে, বিকেলেই সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফে বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গৌরব গগৈয়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁর মাধ্যমে সনিয়া গান্ধীর কাছে সময় চান। আজ শুক্রবার সনিয়ার সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার কথা। প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রীকে তিনি জানাবেন, তিনি দল ছেড়ে যাবেন না।
ফলে মোদ্দা কথা হল, ডালুবাবুকে নিয়ে মাইনুল-পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অ্যাডভেঞ্চারিজমে আপাতত জল পড়েছে। শহীদের সমাবেশের মঞ্চে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন না দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ।