
শেষ আপডেট: 19 October 2022 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাবার মৃত্যুশোকে সব ভুলে গিয়েছিলেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। চার বছর ধরে কোনই খোঁজ পাওয়া যায়নি মেয়ের। গোটা পরিবার ভেবেছিল সে মারা গেছে। আচমকা স্বেচ্ছাসেবীর সংস্থা 'শ্রদ্ধা'র (Shraddha) হাত ধরে ঘরে ফিরল ঘরের মেয়ে। এতদিন পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে খুশির হাওয়া বইছে ক্যানিংয়ের (Canning) চক্রবর্তী পরিবারে।
মধ্যনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন হৃষিকেশ চক্রবর্তী। তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে একজন বীণা ছিল সবথেকে আদরের। পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের বনমালী চক্রবর্তীর সঙ্গে মেয়ের বিয়ে হয় তাঁর। এরপর হৃষিকেশবাবু মারা যেতেই বাবার মৃত্যুশোকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বীণা। ধীরে ধীরে স্বামী, সংসার, সন্তান সবকিছুই ভুলে যেতে থাকেন তিনি। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানো হলেও বীণাকে সুস্থ করা যায়নি। এরপর হঠাৎই একদিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। এদিকে পরিবারের সদস্যরাও বীণার খোঁজে অনেক জায়গায় ঘুরেও লাভ হয়নি।
মাঝে কেটে গিয়েছে চার বছর। সম্প্রতি জানা যায়, ২০২০ সালে গুজরাতের রাস্তা থেকে বীণাকে কুড়িয়ে পান সেখানকার এক মহিলা সমিতির সদস্যরা। এদিকে সেইসময় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। তাঁদের তত্ত্বাবধানেই চিকিৎসা শুরু হয় বীণার। পরে তাঁকে সেখান থেকে মুম্বইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শ্রদ্ধার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানেও তাঁর চিকিৎসা চলতে থাকে। এরপর কিছুটা সুস্থ হলে বীণার কাছ থেকে তাঁর বাড়ি ঠিকানা জানতে পারে ওই সংস্থা।
শ্রদ্ধার অন্যতম সদস্য সমর বসাক জানিয়েছেন, বীণা এখন অনেকটাই সুস্থ আছে। বাড়ির ঠিকানা জেনে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে তাঁরা সকলেই খুব খুশি। তাঁর সমস্ত চিকিৎসার খরচ সংস্থাই বহন করেছে। ঘরের মেয়েকে ফিরে পেয়ে খুশির অন্ত নেই চক্রবর্তী পরিবারে।
প্রথম তিনবার ব্যর্থ চেষ্টা, চতুর্থবার ফাঁকা বাড়িতে আত্মঘাতী কুমারগঞ্জের যুবক