দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার কর্ণাটকে বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতে বিজেপি দাবি করেছিল, এদিনই আস্থাভোট করতে হবে। বিকালের দিকে যখন মনে হচ্ছিল, এদিন ভোটাভুটি হওয়া সম্ভব নয়, তখন বিজেপির একদল প্রতিনিধি খোদ রাজ্যপাল বাজুভাই বালার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। রাজ্যপাল নিজে স্পিকার কে আর রমেশ কুমারকে অনুরোধ করেছিলেন, এদিন সন্ধ্যার মধ্যেই যেন আস্থাভোট নেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হল না। বিধানসভার অধিবেশন শুক্রবার বেলা ১১ টা পর্যন্ত স্থগিত রাখলেন স্পিকার।
বিজেপির প্রবীণ নেতা বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেছিলেন, তাঁরা আস্থাভোটের জন্য মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি। কিন্তু তার পরেও স্পিকার অধিবেশন স্থগিত করে দেন। রেগে গিয়ে বিজেপি বিধায়করা বলেছেন, এদিন রাতটা তাঁরা বিধানসভা ভবনেই কাটাবেন।
এদিন আস্থাভোট হলে কংগ্রেস-জেডি এস জোটের পতন অনিবার্য ছিল। এরপর কখন আস্থাভোট হবে স্থির করবেন স্পিকার। অনেক আগেই বিজেপি এবং শাসক জোটের বিদ্রোহী বিধায়করা অভিযোগ করেছেন, এইচ ডি কুমারস্বামী সরকারের হয়ে কাজ করছেন স্পিকার। সরকার যাতে আরও কিছুদিন টিকে যায়, সেজন্যই তিনি বিদ্রোহী বিধায়কদের পদত্যাগ গ্রহণ করছেন না।
গত দু'সপ্তাহে শাসক জোটের মোট ১৬ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। স্পিকার এখনও সেগুলি গ্রহণ করেননি। গ্রহণ করলে সরকার নিশ্চিতভাবেই গরিষ্ঠতা হারাত। স্পিকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিদ্রোহীরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে, কবে ইস্তফা গ্রহণ করবেন, সে সিদ্ধান্ত স্পিকারই নেবেন। আদালত তাঁর এক্তিয়ারে নাক গলাবে না। তবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও বিধায়ককে বিধানসভায় হাজির হতে বলা যাবে না।
এদিন বেলা ১১ টায় বিধানসভায় আস্থাভোটের প্রস্তাব পেশ করেন কুমারস্বামী। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি আমাদের সরকারের চলার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। ইয়েদুরাপ্পা বলেন, এদিনই আস্থাভোট হওয়া উচিত। কুমারস্বামী তাঁকে কটাক্ষ করে বলেন, মনে হচ্ছে বিজেপির খুব তাড়া আছে।
তিনি পরে বলেন, সরকার থাকল কি গেল বড় কথা নয়। কিন্তু গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।
একটি সূত্রে খবর, এদিন সকালেই দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর কংগ্রেস নেতারা স্থির করেন, বৃহস্পতিবার কিছুতেই আস্থাভোট হতে দেওয়া যাবে না। সেজন্য তাঁরা আস্থাভোট বিতর্কে সরকার পক্ষের মোট ২৬ জন বক্তার নাম প্রস্তাব করেন। কংগ্রেস এখনও ভিতরে ভিতরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। তাঁদের কয়েকজনকে ফের সরকারের দিকে টেনে আনার আশা ছাড়েনি কংগ্রেস-জেডি এস।
বিদ্রোহীরা মুম্বইতে পাঁচতারা হোটেলে রয়েছেন। তবে তাঁদের একজন, রামলিঙ্গ রেড্ডি এদিন বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। শ্রীমন্ত পাটিল নামে আরও এক বিধায়ক পাঁচতারা হোটেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন বলে জানা যায়। পরে শোনা যায়, তিনি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি হয়েছেন।
এদিন কংগ্রেসের ট্রাবল শুটার বলে পরিচিত ডি কে শিবকুমার বিধানসভায় বলেন, আমাদের বিধায়কদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আমাকে ফোন করে কিডন্যাপের কথা জানিয়েছেন।