‘রেশন দোকান কি খাদ্যমন্ত্রীর পৈতৃক সম্পত্তি যে বন্ধ করে দেবেন’, জ্যোতিপ্রিয়র তীব্র সমালোচনায় অধীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে শনিবার মুর্শিদাবাদের লালগোলায় রেশন দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে জনতা। রেশন ডিলারের বাড়ির সামনে আগুনও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তার পরই একাধিক সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্ল
শেষ আপডেট: 1 May 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে শনিবার মুর্শিদাবাদের লালগোলায় রেশন দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে জনতা। রেশন ডিলারের বাড়ির সামনে আগুনও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তার পরই একাধিক সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন, কোথাও রেশন দোকানের সামনে এরকম গণ্ডগোল হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। গণ্ডগোল থামলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই রেশন দোকান সেখানে ফের খোলা হবে।
খাদ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনেই ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিলেন বহরমপুরের সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। এতোটাই ক্ষুব্ধ তিনি যে বলেন, “রেশন দোকান কি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাবার সম্পত্তি যে বন্ধ করে দেবেন।” জ্যোতিপ্রিয়কে '১০ পারসেন্ট মন্ত্রী’ বলেও কটাক্ষ করেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
অধীরবাবু বলেন, রেশন দোকান বন্ধ করা কোনও কাজের নয়। তা হলে মানুষ রেশনের চাল, ডাল পাবে কোথা থেকে? দেখতে হবে যে রেশন ব্যবস্থা তথা গণবন্টন ব্যবস্থায় যাতে কোনও অনিয়ম না হয়। কিন্তু মুশকিল হল বাংলায় গণবন্টন ব্যবস্থায় দুর্নীতি বন্টন করা হয়। তাঁর কথায়, জ্যোতিপ্রিয়বাবু কী করছিলেন? ঘুমোচ্ছিলেন? তাঁর দফতরের সচিবকে এই সংকটের মধ্যে বদলি করতে হল কেন? বাংলার মানুষ ভাল করে জানেন, রেশন ব্যবস্থায় কী দুর্নীতিই না হচ্ছে!
শুধু অধীর চৌধুরী নন, পশ্চিমবঙ্গে রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এর আগে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বাম নেতারা। একই অভিযোগ করেছে বিজেপিও। এ ব্যাপারে সরকারের সমালোচনায় সরব রাজ্যপালও।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিক্ষিপ্ত ভাবে জেলায় জেলায় রেশন ব্যবস্থা নিয়ে অশান্তির ঘটনা ঘটছে তা এই সংকটের পরিস্থিতি মধ্যে কাম্য নয়। অধীরবাবুও এ দিন সে কথাই বলেন। তাঁর কথায়, একটা কথা মনে রাখতে হবে। তা হল, দেশে খাদ্যের অভাব নেই। সরকারের সব গোডাউনে সাত-আট কোটি টন খাদ্য মজুত রয়েছে। এ বছর বৃষ্টি ভাল হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে কৃষি উৎপাদন ভাল হওয়ার কথা। সমস্যা শুধু গণবন্টন ব্যবস্থা নিয়ে। খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় এমনিতেই গরিব মানুষ মাথা পিছু ৫ কেজি করে চাল-গম পান। কেন্দ্রের সরকার আরও পাঁচ কেজি করে দেবে জানিয়েছে। রাজ্য সরকারও অতিরিক্ত পাঁচ কেজি দেবে। সেই খাদ্য মানুষ চাইছে। তা না পেয়েই খেপে যাচ্ছে। কেন তাদের সুষ্ঠু ভাবে খাবার পৌঁছনো যাচ্ছে না সবাই বুঝতে পারছে। রাজ্যে গণবন্টন ব্যবস্থায় ঘুঘুর বাসা তৈরি হয়েছে। তার জন্যই এই বিপত্তি। আর ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর খাদ্যমন্ত্রী লেকচার দিচ্ছেন। সবাই সব বুঝতে পারছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলে খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন রকম দুর্নীতির অভিযোগে ১৯ জন রেশন ডিলারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা ছাড়া এখনও পর্যন্ত ২৭১ জন রেশন ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, “সাধারণ মানুষের যাতে দুর্ভোগ না হয় তার জন্য লকডাউনের সময়ে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সুযোগে কোনও রেশন ডিলার দুর্নীতি করলে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। দোষ প্রমাণ হলে লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।” এর পরই বালুর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন অধীরবাবু।