দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবরি মসজিদ ধ্বংস নিয়ে বুধবার এক মাইলফলক রায়ে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত লালকৃষ্ণ আডবাণী সহ ৩২ জন অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস করেছে। এমনকি আদালত জানিয়েছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংস পরিকল্পনা করে করা হয়নি।
সিবিআই বিশেষ আদালতের এই রায় নিয়ে যখন একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সমাজকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন, তখন বাংলায় শাসক দল কোনও প্রতিক্রিয়াই দেয়নি। এ ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে, সরাসরি প্রশ্ন তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম।
অধীরবাবু এদিন বলেন, “আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি তৃণমূলের যে নেতারা কথায় কথায় টুইট করেন, তাঁরা কি আজ সবাই ঘুমিয়ে পড়েছেন! তাঁরা কি জানেনই না বাবরি ধ্বংস মামলায় সব অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস করা হয়েছে!” লোকসভায় কংগ্রেস নেতার কথায়, “আমি বরাবরই বলেছি, তৃণমূল ধর্মনিরপেক্ষ দল নয়। একদা বিজেপির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দোস্তি ছিল। এখনও আপদে বিপদে তাঁদের স্মরণ করেন। আদালতের রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে পাছে হিন্দুরা অসন্তুষ্ট হন, তাই তৃণমূল এখন ঘাপটি মেরে আছে।”
উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে দলিত মহিলার ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তৃণমূল এদিন মোদী সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিন্তু বাস্তবিকই পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা বাবরি ধ্বংস মামলার রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ডেরেক ও ব্রায়েনের মতো টুইট-পটুরাও দু কথা লেখেননি সোশাল মিডিয়ায়।
ঘরোয়া আলোচনায় শাসক দলের এক নেতা বলেন, দল হয়তো জেনেবুঝেই কিছু বলছে না। কারণ, এই ব্যাপারটা হল, আগাইলে রামের বাণ পিছাইলে রাবণ। এই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলে সংখ্যাগুরু ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। আবার স্বাগত জানানোর প্রশ্ন নেই, তা হলে সংখ্যালঘুরা চটবেন।
এ ব্যাপারে সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, "নাগপুরের আরএসএস সদর দফতর থেকে নির্দেশ আসেনি বলে.মুখ্যমন্ত্রী কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।" বামেদের অনেকদিনেরই অভিযোগ, তৃণমূল আর বিজেপির লড়াই আসলে লোক দেখানো। আসলে ভিতর ভিতর এক। এদিন তৃণমূলনেত্রীর নীরবতা নিয়ে ফের সেই অভিযোগ তুলেছেন বামেরা। তাছাড়া সেলিমের আরও বক্তব্য, "দেশের সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে মুঠোয় আনার চেষ্টা হচ্ছে। যা আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করছে।"
এদিন সিবিআই আদালতের রায় নিয়ে বাম, কংগ্রেস দুই দলই তীব্র সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বাবরি মসজিদ ধ্বংস বেআইনি কাজ। কিন্তু লখনউয়ের বিশেষ আদালত ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সকলকেই মুক্তি দিয়েছে। তাঁর কথায়, “এই রায় সংবিধান বিরোধী। গত নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তারও বিরুদ্ধে গিয়েছে বিশেষ আদালতের এই রায়”। কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ও উত্তরপ্রদেশ সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করুক।
বামেদেরও বক্তব্য, গত নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের রায় দেয়। তখনই শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা বলেছিলেন, বাবরি মসজিদ ভাঙা সম্পূর্ণ বেআইনি। অথচ বিশেষ আদালত বলেছে, সব অভিযুক্তই নির্দোষ। তাই একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বিশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিশেষ আদালতের রায় নিয়ে এদিন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নরসিংহ রাও জমানার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব মাধব গডবোলে। তিনি বলেন, এতো বড় মসজিদ আগাম প্ল্যানিং ছাড়া ভাঙা যায় না। তাঁর কথায়, ‘‘দেশে বিচারব্যবস্থার পরিস্থিতি কী তা এই রায় থেকেই পরিষ্কার।’’