
শেষ আপডেট: 2 March 2023 07:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে অ্যাডেনোভাইরাসের (Adenovirus) দাপট ক্রমশ বাড়ছে। যত দিন এগোচ্ছে, ততই পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে। আক্রান্তের পাশাপাশি বাড়ছে শিশু মৃত্যুর হারও। বৃহস্পতিবার সকাল অবধি যা তথ্য মিলেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, গত দু'মাসের মধ্যে রাজ্যে (West Bengal) ৪৯ জনের মৃত্যু (died) হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল অবধি মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গিয়েছে হামিদপুরের বাসিন্দা সাত মাসের এক শিশু। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই শিশুটি জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে চুঁচুড়া ইমামবারা হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে এসেছিল। এরপর টানা প্রায় ১০দিন লড়াই চালানোর পর বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যায় সে। তার শরীরে অ্যাডেনোভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছে। যদিও হাসপাতাল জানিয়েছে, বাচ্চাটির জন্ম থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল।
হাসপাতাল একথাও বলেছে যে, অ্যাডেনোভাইরাসের জেরে হওয়া নিউমোনিয়া তার কমে গিয়েছিল। হার্টের সমস্যাতেই বাচ্চাটির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হাওড়ার বাগনানের এক শিশুরও এদিন মৃত্যু হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সে। পরীক্ষা করে জানা যায়, তার শরীরেও অ্যাডেনোভাইরাস পজিটিভ ছিল।
এছাড়াও বিসি রায় শিশু হাসপাতালে উত্তর ২৪ পরগনার আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বারাসত এবং অপরজন গোবরডাঙার বাসিন্দা ছিল। এই দুই শিশুর শরীরেও মিলেছে অ্যাডেনোভাইরাস। প্রত্যেকেই জ্বর এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যেভাবে এই ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে, তাতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। শ্বাসকষ্ট নিয়ে কোনও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে কোনওভাবেই রেফার করা যাবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
১০ দফার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগকে সজাগ থাকতে হবে। দ্রুত চিকিৎসার স্বার্থে আলাদা করে শিশুরোগ বিভাগ চালু করতে হবে। শ্বাস কষ্ট নিয়ে কোনও শিশু ভর্তি হলে, তাকে রেফার করা যাবে না। অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর-সহ বাকি সামগ্রী মজুত রাখতে হবে। শিশুদের এই ভাইরাস থেকে রুখতে সচেতন করবেন আশাকর্মীরা। প্রতি হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে হবে স্যানিটাইজেশনের কাজ।
ভাইরাস ঠেকাতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে সে বিষয়ে মঙ্গলবারই নতুন অ্যাডভাইসরি জারি করেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে ফের নতুন গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় এও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপারের সুপারিশ ছাড়া কোনও অসুস্থ শিশুকে ‘রেফার’ করা যাবে না।
অ্যাডেনোভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কাদের বেশি? সংক্রমণ ঠেকাতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য