
শেষ আপডেট: 3 June 2019 18:30
কলেজে পড়ুয়াদের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের কনফারেন্সের আয়োজনে বিশেষ উদ্যোগী ছিলেন ডঃ বিসি রায় ফার্মাসি কলেজের ডিরেক্টর ডঃ সুব্রত চক্রবর্তী। তাঁর তত্ত্বাবধানে এবং উৎসাহে পড়ুয়ারাও অনেক বেশি একাগ্র মনে এবং আনন্দের সঙ্গে এই কনফারেন্সে যোগ দেয়। BCRCPiCON-2019-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল দেশ-বিদেশের নানা কলেজের অধ্যাপকদের উপস্থিতি। এই মিলমিশই ডঃ বিসি রায়ের ফার্মাসি কলেজকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড টেকনোলজির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক (ডঃ) সৈকত মিত্র, ইন্ডিয়ান ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচার’স অ্যাসোসিয়েশনের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট দীপনাথ রয় চৌধুরী, দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডঃ সত্যজিৎ বসু, মুম্বইয়ের ম্যাকলয়েড’স ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের টেকনিক্যাল হেড এল কে প্রধান, মালয়েশিয়া UiTM Puncak Alam Campus-এর অধ্যাপক টিন উই ইয়ং ছিলেন মূল বক্তা।
প্রথম দিনের আলোচনা সভা ছিল দুলাল মিত্র মেমোরিয়াল অডিটোরিয়ামে। দ্বিতীয় দিন ডঃ বিসি রায় ফার্মাসি কলেজ চত্বরে। দু’দিনের এই কনফারেন্সের প্রথম দিনে নজর কাড়েন গুজরাটের সান গ্লোবাল অপারেশনের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডঃ সম্পদ ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গেই পড়ুয়াদের মন জয় করেন কমনওয়েলথ ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডঃ ভিএসভি ভালানুড়ি, ক্যালকাটা স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ডঃ শান্তনু ত্রিপাঠি। দ্বিতীয় দিনের সেরা আকর্ষণ ছিলেন কলেজের বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক (ডঃ) অরূপ মুখোপাধ্যায়, খড়্গপুর আইআইটি-র মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ শান্তনু ধারা। ডিজিটাল প্রেজেন্টেশনের পাশাপাশি ফার্মাসির নানা বিষয়ের উপর মোট ১৫৩টি পোস্টার লাগানো হয়েছিল এই কনফারেন্সে। ২১ জন স্বনামধন্য অতিথি তাঁদের বক্তব্য পেশ করেন।


সাফল্য়ে ছুঁয়েছে যে সব পড়ুয়ারা- বাঁ দিক থেকে, অনুপমা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, সুবীর চট্টোপাধ্য়ায় ও রূপম
দুর্গাপুরের ডঃ বিসি রায় গ্রুপের ফার্মাসি বিভাগের নাম ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ফার্মাসি কলেজেই মোট ৩৯টি ল্যাবোরেটরি রয়েছে। গবেষণামূলক কাজে পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতেই এই প্রচেষ্টা। তা ছাড়া চলতি বছরে GPAT ও GATE পরীক্ষাতেও তুখোড় ফলাফল করেছে ছাত্রছাত্রীরা। দুই পরীক্ষাতেই দুর্দান্ত র্যাঙ্ক করে খবরের শিরোনামে চলে এসেছে সুরজিৎ কুমার সাহা, শেওশ্রী ভট্টাচার্য, তানিয়া চৌধুরী, অনুপমা সিং, দেবরূপ ভৌমিক, আকাশ দে, অপরাজিতা ঘোষ, শিবম কুমার-সহ অনেক পড়ুয়াই। সকলের মধ্যে নজর কেড়েছে অনুপমা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপিএ-দেবেন্দ্র পাল ন্যাশনাল এডুকেশন কম্পিটিশনে জাতীয় ও রাজ্য স্তরে ভালো ফল করে নজর কেড়েছে অনুপমা। আইআইটি আয়োজিত স্পিরিট-২০১৮ প্রতিযোগিতায় পোস্টার প্রেজেন্টেশনে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল অনুপমা। [caption id="attachment_111115" align="aligncenter" width="603"]
ডঃ বিসি রায় কলেজ অব ফার্মাসি[/caption]
ই-লার্নিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সেরার মুকুট আগেই উঠেছিল মাথায়। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার’স (আইইইই)-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছিল পথ চলা। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে সম্প্রতি ‘পাইথন প্রজেক্ট’ শুরু হয়েছে দুর্গাপুরের ডঃ বিসি রায় গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনসে। FOSSEE এবং ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার’স (আইইইই)-র স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের উদ্যোগে পাইথন প্রোগ্রামিং ল্য়াঙ্গুয়েজের খুঁটিনাটি অধ্য়াপকরা তুলে ধরেছেন পড়ুয়াদের সামনে যেমন Python scripting language, IPython, plotting, Arrays and Numpy Arrays। সেই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুইজ এবং প্রশ্নোত্তর রাউন্ড। কর্মসংস্থানের দৌড়ে এই পাইথন প্রোগ্রামিং ল্য়াঙ্গুয়েজ পড়ুয়াদের অনেকটাই এগিয়ে দেবে বলেই জানিয়েছেন ডঃ বিসি রায় গ্রুপের কর্তৃপক্ষ।
[caption id="attachment_111116" align="aligncenter" width="620"]
ডঃ বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ[/caption]
এ সবের মাঝেই, ফার্মাসি কলেজকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ নিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। গবেষণায় ফার্মাসি কলেজকে সেরার দৌড়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে বেশ কিছু অর্গানাইজেশনের মৌ স্বাক্ষর করে ফেলেছে ডঃ বিসি রায় গ্রুপ। যাদের মধ্যে রয়েছে মিশন হাসপাতাল, বুর্নেট ফার্মাসিউটিক্যালস, টেকনো রেমেডিজ, ক্যাপলেট ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গেও মৌ নিয়ে কথাবার্তা চলছে।
দুর্গাপুর শুধু নয়, রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির মধ্যে একটি ডঃ বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। বিটেক, এমটেকের পাশাপাশি উচ্চস্তরের গবেষণারও সুবন্দোবস্ত রয়েছে কলেজে। সেই সঙ্গে রয়েছে এমসিএ, এমবিএ ও ফার্মাসি পাঠের সুবিধা। কলেজের সমস্ত বিভাগ মিলিয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী মিলিয়ে সংখ্যাটা পাঁচশো ছাড়িয়েছে। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ‘ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অন টেকনোলজি এনহ্যান্সড লার্নিং’ (এনপিটিইএল) প্রকল্পে দুরন্ত ফল করে সম্প্রতি ‘এএএ’ র্যাঙ্কিংয়ে চলে এসেছে ডঃ বিসি রায় গ্রুপ। এনপিটিইএল প্রজেক্টে রাজ্যস্তরে বিসি রায়ের স্থান তৃতীয়, সর্বভারতীয় স্তরে তাদের র্যাঙ্ক ১০। ই-লার্নিংয়েও নতুন দিশা দেখাচ্ছে বিসি রায় কলেজ। টেক-ফেস্ট এবং গুগল-ক্লাউড নিয়ে পড়ুয়া-শিক্ষকদের ওয়ার্কশপও যথেষ্ট প্রশংসনীয়। আগামী দিনে আরও নতুন নতুন প্রকল্প ও উদ্যোগ নিয়ে আসতে চলেছে ডঃ বিসি রায় গ্রুপ।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-a-three-day-workshop-titled-asbasics-of-pythonwas-conducted-in-bcrec-durgapur/