দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহ খানেক আগেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী নির্বাচনী পর্যালোচনা বৈঠক করেছিলেন। যদিও সেই বৈঠকে আবদুল মান্নান, শঙ্কর মালাকারদের মতো নেতারা গরহাজির ছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকদের অধীর চৌধুরী জানিয়েছিলেন, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আইএসএফ প্রার্থী দিয়েছিল তাই ওদের সঙ্গে আমাদের জোট নেই।
কিন্তু রবিবার দেখা গেল অধীরের উল্টো পথে হেঁটে সোজা ফুরফুরা শরিফে পৌঁছে গেলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করলেন আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে। সেইসঙ্গে প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট করে বলেন, দিল্লি জোট করতে বলেছিল। দিল্লি এখনও জোট ভাঙার কথা বলেনি। সুতরাং আমি এখনও মনে করে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট রয়েছে।
এখানেই থামেননি মান্নানসাহেব। চাঁপদানির প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, "আমার মতো সিনিয়র নেতা এখন বাংলার কংগ্রেসে নেই। দেবপ্রসাদ রায় রয়েছেন কিন্তু এক টানা দল করার ব্যাপারে আমিই সিনিয়র। আমি চলি সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীর নির্দেশে। এখানে কে কী বলছেন তা বলতে পারব না!"
মান্নান এও মনে করিয়ে দিতে চান, "ভোটের আগে যতক্ষণ না দিল্লি সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে আমি আব্বাসদের সঙ্গে কথা বলতে আসিনি। অধীরবাবু এসেছিলেন সেই সময়ে। দিল্লি বলার পর আমি এসেছি।" অনেকের মতে, মান্নান বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি চলছেন হাইকমান্ডের নির্দেশে। বাংলায় অধীর চৌধুরীরা যা বলছেন তা তাঁদের ব্যক্তিগত মন্তব্য। দলের নয়।
এখন প্রশ্ন হল মান্নান কেন গিয়েছিলেন ফুরফুরা?
একুশের ভোটে মোর্চার একমাত্র বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে ফুরফুরা শরিফই। আব্বাসের ভাই নৌশাদ বিধায়ক হয়েছেন ভাঙড় থেকে। মান্নান সাহেব বলেন, "মোর্চার একমাত্র বিধায়ক নৌশাদ। তিনি আমাদের হুগলি জেলার সন্তান। কিন্তু বিধায়ক হিসেবে নিজের কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না। আমার মনে হয়েছে তাঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত তাই এসেছি।"