
শেষ আপডেট: 3 April 2023 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবদুল লতিফের (Abdul Latif) কি ডানা আছে? তিনি কি যখনতখন উড়ে যেতে পারেন?
কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা (Raju Jha) খুনের ঘটনার পর গরু পাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে নাম থাকা আবদুল লতিফের বিষয়টি নিয়ে ঘোর রহস্য তৈরি হয়েছে। হবে না-ই বা কেন? যিনি সিবিআইয়ের খাতায় ফেরার, যাঁকে প্রায় সাত মাস ধরে সিবিআই নাকি খুঁজে পাচ্ছে না, সেই তিনিই রাজু ঝাকে গাড়িতে করে নিয়ে দুর্গাপুর থেকে শক্তিগড়ে এসেছিলেন ১ এপ্রিল। রাজু খুন হওয়ার পর মিনিট ১৫ ওই জায়গায় ছিলেন লতিফ। তারপর আবার কেমন কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন। তাঁর টিকি পাওয়া যায়নি সোমবার সন্ধে পর্যন্ত।
২০২২ সালের ৭ অগস্ট গরু পাচার মামলায় আসানসোলের বিশেষ আদালতে সিবিআই সাপ্লিমেন্টরি চার্জশিট দিয়েছিল। তাতে বিনয় মিশ্র ও আবদুল লতিফের যোগের কথা বলেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেইসঙ্গে আদালতে সিবিআই জানিয়েছিল, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বিনয়। আর আবদুল লতিফকে পাওয়াই যাচ্ছে না। তিনি ফেরার।
অথচ বীরভূমের ইলাম বাজারের লোকজন বলছে, আবদুল লতিফ বহাল তবিয়তে বাড়িতেই ছিলেন। ঘুরেছেন, ফিরেছেন, সাধারণ জীবনযাপন করেছেন।
ইতিমধ্যেই আবদুল লতিফের গাড়ির চালক নূর হোসেন রাজু ঝা খুনের ঘটনায় গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল তথা সিটকে লিখিত বয়ান দিয়েছেন। তাতে নূর জানিয়েছেন, ১ এপ্রিল সকাল আটটায় ইলামবাজারে আবদুল লতিফের বাড়িতে যান তিনি। দুপুর একটায় আবদুল লতিফ গাড়িতে ওঠেন। গাড়ি রওনা দেয় দুর্গাপুরের উদ্দেশে।
এর মাঝে ফিরিঙ্গি মোড়ে ওই সাদা ফরচুনে পিছনের সিটে ওঠেন ব্রতীন মুখোপাধ্যায়। বিকেল পাঁচটা নাগাদ সিটি সেন্টারে ফরচুন হোটেলে এসে থামে গাড়ি। নূর তাঁর বয়ানে লিখেছেন, ওই হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজু। তারপর লতিফ, ব্রতীন এবং রাজু ঢুকে যান হোটেলে।
সন্ধে সাড়ে ছ'টা নাগাদ দুর্গাপুর থেকে গাড়ি রওনা দেয়। সামনের সিটে চালকের পাশের আসনে ছিলেন রাজু। নূর এও লিখেছেন, শক্তিগড়ে ব্রতীন তাঁকে গুটখা কিনতে দাঁড়াতে বলেন। এরপর ওই জায়গায় গাড়ি থেকে নামেন নূর। নেমে পড়েন ব্রতীন এবং লতিফও। সেই সময়েই গাড়িতে বসে থাকা রাজুকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় দুষ্কৃতীরা।
ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আবদুল লতিফ সাদা শার্ট, ডেনিম জিনস আর দামি জুতো পরে ফোনে কথা বলছেন। তারপরই সেখান থেকে তিনি যেন কোথায় বিলীন হয়ে গিয়েছেন।
তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, খুন হয়ে যাওয়া রাজুকে সোমবার কয়লা মামলায় ইডি দিল্লিতে তলব করেছিল বলে খবর। আর তিনি খুন হয়ে যান শনিবার। যে লতিফকে সিবিআই খুঁজেই পাচ্ছে না, তিনি ছিলেন এই রাজুর সঙ্গে। সবটা কেমন রহস্যজনক না?
এই রাজু একুশের বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে নাকি তাঁর বেশ দহরমমহরম ছিল। এদিকে আবার বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং বলেছেন, ‘রাজু আমার স্মল ব্রাদার।’
রাজুর খুন হয়ে যাওয়া, লতিফের উবে যাওয়া—ক্রমশ রহস্য বাড়াচ্ছে শক্তিগড় কাণ্ড।
বাইরে থেকে ভাড়াটে খুনি আনিয়ে হত্যা করা হয়েছে রাজুকে! সূত্রের সন্ধানে ঝাড়খন্ড যাচ্ছে পুলিশ