
শেষ আপডেট: 21 January 2021 11:43

৩ জানুয়ারি রবিবার সকালে ঘুম ভাঙার আগেই দেখা যায়, মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ফুরফুরা শরিফে অজু করছেন। পরে নমাজ, হাল্কা প্রাতঃরাশ সেরে বেলা বেলা বেরিয়ে যান তিনি। তার আগে ফুরফুরার ‘চশমে চিরাগ’ আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকিকে পাশে নিয়ে বলেন, “বাংলায় আমরা লড়ব। আব্বাসের নেতৃত্বেই লড়ব। তাঁর নির্দেশেই চলব। বাকিটা উনিই বলবেন।”
আব্বাস সে দিন বিশেষ কিছু আর জানাননি। কয়েকদিন পর ‘দ্য ওয়াল’কে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বলেন, “হ্যাঁ আমি পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করছি। নির্বাচন কমিশনে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পার্টির কী নাম দিয়েছি তা খুব শিগগির সাংবাদিক বৈঠক করে জানাব।” এদিন তা জানিয়ে দিলেন আব্বাস।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস চাপে রয়েছে। কারণ দল ভাঙছে। একের পর এক সাংসদ, বিধায়ক, শক্তপোক্ত নেতা তাঁরা বিজেপিতে যাচ্ছেন। অনেকে বেসুরো গাইছেন। এর মধ্যেই আব্বাসের নতুন দল তৃণমূলের আরও উদ্বেগ বাড়াবে বলেই মত তাঁদের।
রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, আগে যেমন সংখ্যালঘু ভোটে বামেদের আধিপত্য ছিল তৃণমূল আসার পর সেই ভোট ঢেলে পড়ে তাদের বাক্সেই। সংখ্যালঘু ভোট যে তৃণমূলের অন্যতম ভরসা তা নিয়ে লুকোছাপা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই লোকসভা ভোটের পর বলেছিলেন, "এবার ভোটটা টোটাল হিন্দু মুসলমান হয়েছে। যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও সহ্য করতে পারি।"
এর মধ্যে আবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক আহ্বান জানিয়েছেন আব্বাসকে বাম-কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ জোটে শামিল হতে। যদিও মিম নিয়ে সিপিএমের আপত্তি রয়েছে। তবে সূর্যবাবু বলেছেন, আব্বাস কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কথা বলছেন না। ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বহুজনের কথা বলছেন।
সব মিলিয়ে আব্বাসের নতুন দল কি বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ রচনা করতে পারবে? সেই কৌতূহল থাকবে রাজনৈতিক মহলে।