
শেষ আপডেট: 3 September 2022 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: প্রথমে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তালাবন্দি করে রাখা হয়েছিল গ্রামেরই এক যুবককে। এরপর সেখান থেকে বের করে এনে চলে গণপিটুনি (lynching)। বেধড়ক মারে শেষে মৃত্যু (died) হয় সেই যুবকের। অভিযোগ, সে নূপুর চুরি করেছে। চোর সন্দেহে এভাবেই এক গ্রামবাসীকে পিটিয়ে খুন করা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের (Birbhum) নানুর থানার সাঁতরা গ্রামে। মৃত যুবকের নাম বসির শেখ।
তবে নিহত যুবকের পরিবার সূত্রে খবর, বছর দুই আগে তাঁদের বাড়ির ছেলে তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। এরপর কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন না তিনি। দল ছাড়ার জন্য বহুদিন ধরেই টার্গেট ছিলেন বসির। মনে করা হচ্ছে, দল ছাড়ার জন্যই তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হল।
গ্রামবাসী সূত্রে খবর, নানুর থানার সাঁতরা গ্রামের বাকু শেখের মেয়ের পায়ের নূপুর শুক্রবার চুরি যায়। বসির-ই সেই নূপুর চুরি করেছে এই সন্দেহে প্রথমে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে তালা বন্ধ করে রাখা হয়। পরে দশ-বারো জনের একটি উন্মত্ত দল তাঁকে গণপিটুনি দেয়। মাঠের মধ্যে ফেলে শাবল, লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারা হয়।
ডেবরায় তৃণমূল নেতাকে গাছে বেঁধে পেটাল এলাকাবাসী, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ
অন্যদিকে মৃতের দাদা নাসিম শেখ বলেছেন, ‘ভাই তৃণমূল ছাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন পুলিশ কেসে ফাঁসানো হয়েছে। অভিযুক্তদের থেকে আমার ভাই টাকা পেত, সে নিয়ে বার কয়েক ঝামেলাও হয়েছিল। আর সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হল।’
পরে গুরুতর জখম বসির শেখকে অভিযুক্তরা টোটোয় চাপিয়ে মঙ্গলকোটের ব্লক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানেই চিকিৎসকরা বসিরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বসিরের পরিবারের দাবি, দোষীদের ফাঁসি হোক। তাঁর শ্বশুর শেখ ডালু বলেন, নির্দোষ ছেলেটাকে পিটিয়ে খুন করে দিল তৃনমূলের দুষ্কৃতীরা।