দ্য ওয়াল ব্যুরো: পড়শির বউভাতের আসরে গিয়েছিল মেয়ে। ফিরে এসে সারাদিন মনমরা হয়েছিল। এরপরেই ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায় তার। ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোরগোল পড়ে যায় মুহিন্দর গ্রামে। পরিবারের দাবি, বউভাতে যাওয়ার সময় কনেযাত্রীদের সঙ্গে থাকা এক যুবকের হাতে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছিল সে। বাড়ি ফিরে এলেও ওই যুবক ও তার দুই বন্ধুর কাছ থেকে নিস্তার পাইনি মেয়ে। তাই, অপমান সহ্য করতে না পেরেই এমন চরম পথ নিল। ইতিমধ্যে, ছাত্রীর পরিবারের তরফ থেকে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানায় তিন যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে, এলাকা থেকে এখন বেপাত্তা ওই তিন অভিযুক্ত। তিন যুবকের নাম সুরজ মুর্মু ,সাগুন মুর্মু ও বিকাশ সরেন।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় পর্বতপুর উচ্চ বালিকা বিদালয়ের ওই ছাত্রী মামার বাড়িতেই থাকত। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার মুহিন্দর গ্রামের ভাগার পাড়ায় তার মামার বাড়ি। বাবা-মা হুগলির বৈকন্ঠপুর এলাকায় থাকেন। ছোট থেকেই মেয়েকে মামারবাড়িতে রেখে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন তাঁরা। মঙ্গলবার ওই ছাত্রী প্রতিবেশী এক তরুণী বউভাতে যায়। কনেযাত্রীদের সঙ্গে সে বাসে বাড়ি ফিরছিল। বাসের পিছনের সিটে বসে ছিল সে। সেই সময় যাত্রীদের মধ্যে থাকা সুরজ নামে এক যুবক তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। ছাত্রী চিৎকারে বাকি কনে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে সুরজ চুপ করে যায়। কিন্তু, বাড়িতে এসে ফের সুরজ ও তার দুই বন্ধু ছাত্রীকে নিগ্রহ করা শুরু করে। অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকে। এরপরে ওই ছাত্রী ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায় তারই ঘর থেকে।
ছাত্রীর দাদু অভিযোগ, '' রাতে অনুষ্ঠান থেকে ফিরে এসেছিল মেয়ে। কিন্তু তার ঘরের সামনে গিয়ে সুরজ ও তার দুইবন্ধু সমানে উতক্ত করতে থাকে নাতনিকে। অপমানে একেবারে চুপ করে গিয়েছিল নাতনি। এরপর ঘরে তার ঝুলন্তদেহ পাওয়া গিয়েছে। সুরজের জন্যই আজ এমন চরম পথ বেচে নিয়েছে নাতনি। তাই দোষীদের আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।''
এদিকে বৃহস্পতিবার ছাত্রীর দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সেটিকে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে।