দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুকুমার রায় লিখেছিলেন, "ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল!" মালদহের ইংরেজ বাজারের ঘটনা যেন কতকটা তেমনই। ছিল স্কুল, হয়ে গেল ধূ ধূ মাঠ!
শিক্ষক রয়েছেন, ছাত্রছাত্রী রয়েছে, কিন্তু হঠাৎই উধাও গোটা স্কুল ভবনটি। গোটা ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কে বা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনাকে ঘিরে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের ইংরেজবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে।
১৯৬৯ সালে এলাকার দুঃস্থ ও পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল ছাত্রবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতদিন এই প্রাথমিক বিদ্যালয় ঠিকঠাক চললেও বেশ কয়েকদিন আগে হঠাৎই এই ভবনটিকে ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ভেবেছিলেন হয়তো পুরনো ভবনটিকে ভেঙে নতুন করে আবার তৈরি করা হবে ।
জানা গেছে, স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানান গোটা বিষয়টি। জেলা পরিদর্শক তদন্ত করে দেখার পর ইংরেজ বাজার থানায় গোটা ঘটনার বিবরণ জানিয়ে অভিযোগ জানান। অভিযোগ জানান জেলা সদরের এসডিও নিজেও। ঘটনার পরে পুলিশের তরফে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের একটি মামলা রুজু করা হয়। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত তা এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারেননি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ সেলিম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই এই স্কুলে পড়াশোনা চলছে। আমরাও এই স্কুলেই পড়াশোনা করেছি। তবে হঠাৎ করে দেখি এই স্কুল ভবন ভেঙে দেওয়া হয়েছে।" তবে এর পেছনে কারা রয়েছে তা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি ।
এই প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক সুনীতি সাঁপুই মন্তব্য করতে চাননি। যদিও গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা সদরের মহকুমা শাসক সুরেশ রানো জানান, "একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছিলাম তার ভিত্তিতে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় কেউ বা কারা এই ভবনটি ভেঙে ফেলেছে । তারপরেই ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ জানানো হয়।" তিনি আরও বলেন, "একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ভাঙা যায় না। যদি ভবনটি পুরনো হয়ে গিয়ে থাকে কিংবা ভেঙে পড়ে সেই ক্ষেত্রে সরকারি ইঞ্জিনিয়ার পরিদর্শনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সে ভবনটি ভেঙে ফেলার। এক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম না মেনেই এই স্কুল ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে।"
কিন্তু ভাঙলটা কে?
সরকারি আধিকারিকরা অভিযুক্তদের সন্ধান না পেলেও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর গলায় ভিন্ন সুর। তিনি জানান. স্কুল ভবনটি ভেঙে পড়েছিল। যত্রতত্র সাপের আনাগোনা বেড়েছিল তাই বিল্ডিংটি পরিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এও বলেন অন্যত্র স্কুল ভবন তৈরি হয়েছে।
এতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রশাসন জানে না, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ জানে না, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানেন না অথচ কৃষ্ণেন্দুবাবু জেনে গেলেন?
জেলা বিজেপির সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, "একটি সরকারি ভবন ভাঙতে হলে সরকারি নিয়মকে মেনে করতে হবে এ ক্ষেত্রে সরকারি কোনও নিয়ম মানা হয়নি । রাজ্যে তোলাবাজি কাটমানির পাশাপাশি স্কুল ভবনও চুরি করছে তৃণমূল!"