
শেষ আপডেট: 23 August 2021 10:41
জলদাপাড়ার দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিরল বিস্ময় এখন রাজা। কারণ কোনও ডোরাকাটার ২৫ বছর পূর্ণ হওয়াকে নজির বলেই মনে করছে রাজ্য বন দফতর। সেই কারণেই এবছর ২৩ অগাস্ট খয়েরবাড়িতে রাজার জন্মদিন পালিত হচ্ছে রাজকীয় ভাবে। ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে এখন সাজো সাজো রব। রাজার জন্মদিনে অনলাইন কুইজ থেকে শুরু করে সব কিছুরই আয়োজন করেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে অলিম্পিক ও নটরাজ বিখ্যাত এই দুই সার্কাস থেকে ১৯টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে এই ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়েছিল। তাদের কেউ এখন আর এই পৃথিবীতে নেই। এর পরে ২০০৮ সালে সুন্দরবনের ঝড়খালি জঙ্গল থেকে ১২ বছরের একটা বুনো বাঘকে নিয়ে আসা হয়েছিল দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে। নাম দেওয়া হয়েছিল রাজা। সেই দিনটা ছিল ২৩ অগস্ট। সেই থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ ২৩ অগস্টকেই রাজার জন্মদিন মানে।
এদিকে জীবনযুদ্ধেও রীতিমতো রেকর্ড করতে চলেছে সেই রাজা। দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাজাকে রাখা হয় একেবারে রাজার হালেই। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝড়খালির নদীতে রাজার বাঁ দিকের পেছনের পা খুবলে খেয়েছিল কুমীর। কোনওমতে রাজা কুমীরের গ্রাস থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরে। তার পরেই তাকে শুশ্রূষার জন্য নিয়ে আসা হয় খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
প্রথমে কয়েকদিন তো মুখে কিছুই তোলেনি সে, কিন্তু ধীরে ধীরে তার খিদে হয়। খাওয়া শেখান তাঁর ‘কেয়ার টেকার’ পার্থসারথি সিনহা। রাজা নামটিও পার্থরই দেওয়া। রীতিমতো বাবার স্নেহেই নখ কাটা থেকে শুরু করে রাজার সব রকম যত্নআত্তি করেন পার্থ।
প্রতি তিনমাস অন্তর কলকাতা থেকে বিশিষ্ট পশু চিকিৎসক প্রলয় মন্ডলের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম আসে রাজার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। রাজার জন্য ১০ ফুট বাই ১৫ ফুটের তিনটি লোহার খাঁচা বরাদ্দ, যার উচ্চতা ১০ ফুট। তবে খোলা এনক্লোজারেই বেশিরভাগ সময় ঘুরে বেড়ায় সে।
এবার সকলের শুভেচ্ছায় ভালোবাসায় রাজার ২৫ বছরের জন্মদিন পালন হবে ধুমধাম করেই।