সুভাষ চন্দ্র দাশ
বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপের ছোবল খেয়ে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছলেন সোনারপুরের বাসিন্দা। শুধু তাই নয় , সাপটিকে মেরে পুড়িয়ে, ক্ষতস্থানে বেঁধে নিয়ে গেলেন সেই রোগী। বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার অন্তর্গত ডিহি এলাকার বাসিন্দা স্বপন নস্কর পেশায় মৎস্যজীবী। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার ভোরেও ঘুম ভেঙে মাছ ধরতে যাচ্ছিলেন স্বপন। পথেই চন্দ্রবোড়া সাপ তাঁকে ছোবল দেয়।
মুহূর্তে সাপটিকে ধরে মেরে ফেলেন তিনি। এরপর সাপটিকে পুড়িয়ে ক্ষতস্থানে বেঁধে বাড়ি ফিরে আসেন। পরিবারের লোকজনকে ঘটনার কথা জানাতেই কেউ কেউ ওঝা-গুণীনের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু সে কথায় কর্ণপাত না করে সোজা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্বপন। যন্ত্রণা সামলে অটোয় চেপে দু'ঘন্টা পর ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন। চন্দ্রবোড়া সাপ ছোবল দিয়েছে জানতে পেরেই তড়িঘড়ি চিকিৎসা শুরু করেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁকে সাপের বিষনাশক প্রতিষেধক (এভিএস) দেওয়া হয় ১০ খানা। তারপরই বিপদ কেটে যায়। বর্তমানে স্বপন নস্কর ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্যানিং যুক্তিবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার অন্যতম সদস্য দেবাশিস দত্ত জানিয়েছেন, দেরিতে হলেও হাসপাতালে আসায় প্রাণরক্ষা হয় স্বপনের। তিনি আরও বলেন, সাপে ছোবল দিয়েছে ঠিকই তবে সাপ হচ্ছে পরিবেশের বন্ধু। তাকে মেরে ফেলা উচিত হয়নি।
ইদানীং সাপের ছোবল খেলে ওঝা গুণীন না ধরে হাসপাতালেই আসছেন বেশিরভাগ। এই কদিনে এতটা সচেতনতা বোধ গড়ে তুলতে পারা নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক সাফল্য। কিন্তু সেই সঙ্গে নির্বিচারে যাতে সাপ না মারা হয় সে বিষয়ে আগামীদিনে আরও জোরদার প্রচার চলবে বলে জানান চিকিৎসক ও যুক্তিবাদী মহল।