
শেষ আপডেট: 15 January 2023 07:33
মেলায় বা জমায়েতে বহুরূপীদের (polymorphous) সেই মজাদার উপস্থাপনা আজকাল বিরল। কলকাতায় তো দেখাই যায় না, কলকাতার বাইরেও তাদের আনাগোনা ক্রমেই কমছে। কিন্তু তারই মধ্যে এখনও কেউ কেউ বহুরূপী সেজে আনন্দ দিতে ভালবাসেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোডের বাসিন্দা তৃণাঙ্কুর পাল তেমনই একজন। তাঁকেই দেখা গেল গঙ্গাসাগর (gangasagar mela) চত্বরে। খোদ করোনা ভাইরাস (corona virus) সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।
লাল রঙ এর পোশাক পরেছেন, মাথা জোড়া লাল মুখোশ। তার উপর শিং, ভয় দেখানো চোখ। গোটা মাথায় করোনার মতো কাঁটা কাঁটা। হাতে রয়েছে তেমনই কাঁটা কাঁটা এক লাল রঙের নকল গদা। এই সাজেই সকলকে করোনা নিয়ে সচেতন করে চলেছেন বহুরূপী তৃণাঙ্কুর পাল।
পুণ্যস্নানের সময় হঠাৎ পিরিয়ড, বা খিদেয় কাঁদছে শিশু! সাগরে মা-বোনেদের আশ্রয় 'শি কর্নার'
বছর পঞ্চাশের তৃণাঙ্কুরবাবু অবশ্য কেবলই বহুরূপী নন। পেশায় তিনি কৃষক। চাষবাসের অবকাশে এমন নানা সাজে ঘুরে বেড়ান। নিছক বিনোদন তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তিনি সচেতনতার বার্তা নিয়ে সারা রাজ্য-দেশ করে বেড়ান।
তৃণাঙ্কুরবাবু জানালেন, করোনা ভাইরাস গত তিন বছর ধরে আমাদের জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। এখনও সে ছেড়ে যায়নি, অথচ মানুষের মধ্যে সে সচেতনতা নেই। এই এত বড় মেলায় মাস্ক পরা নিয়ে কোনও কড়াকড়ি নেই। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা। তাই তিনি নিজেই করোনা সেজে এসেছেন, মানুষকে সচেতন করতে।
এই প্রথম নয়। এর আগেও গঙ্গাসাগর মেলায় ও অন্যান্য মেলায় নানা সাজে হাজির হয়েছেন তিনি। কখনও সেজেছেন ডেঙ্গি মশা, কখনও আবার এইডসের জীবাণু এইচআইভি। প্রতিবারই এইসব মারণ অসুখ নিয়ে মানুষকে সচেতন করেছেন তৃণাঙ্কুর। দিয়েছেন সুস্থতার বার্তা।
তৃণাঙ্কুর পালের এই অভিনব সচেতনতা প্রচারের অভিযানে তাঁর সঙ্গী একটি সাইকেল। দু'চাকার সেই বাহনে করেই ঘুরে বেড়ান তিনি। এইবারও সেই চন্দ্রকোণা থেকে গঙ্গাসাগর তিনি এসেছেন সাইকেল চালিয়ে। সময় লেগেছে চার দিন। এখান থেকে ফের ফিরবেন সাইকেল চালিয়ে। সাইকেল চালানোর সময় একটি হেলমেটও পরছেন তিনি, সেটিও লাল রঙে রাঙানো। তাতেও লাগানো করোনার কাঁটা।
তৃণাঙ্কুরের মতোই মেলা মাতাচ্ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি এলাকার বডি-আর্ট শিল্পী গোপাল মণ্ডল। তিনি গোটা গায়ে সোনালি রং করে সেজেছেন কপিলমুণি আশ্রমের তোরণদ্বার। মেলা প্রাঙ্গণে আস্ত তোরণ সেজে ঘুরছেন তিনি। সেরকমই কেউ সেজেছেন বাঘ, কেউ বা শিবঠাকুর।
সারা দেশ থেকে আসা কাতারে কাতারে পুণ্যার্থীর ভিড়ে বাঘ-শিব-করোনাদের কীর্তি দেখে দিব্যি মজা লাগে। সরল আনন্দে মেতে ওঠে মেলা।
ইয়াব্বড় চুম্বক টেনে টেনে সাগরজলে চিরুনি তল্লাশি! দিনভর ভেজার পরে মেলে ২০-২৫ টাকা