দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইল চুরির ্অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খুনের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনা ভাতারের ওড়গ্রামে। এক মহিলার মোবাইল চুরি যায় দিনকয়েক আগে। সেই চুরির অভিযোগ গিয়ে পড়ে ওই মহিলারই এক প্রতিবেশী বাবলু মুর্মুর উপরে। মহিলার পরিবার দাবি করে, বাবলুই নাকি মোবাইল ফোনটি চুরি করেছিলেন। এই নিয়ে দুই পরিবারে তুমুল বচসা হয়। তবে পরে দুই পরিবার আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়েও নেয়। কিন্তু গোল বাঁধে এর দিন কয়েক পরে।
বাবলু ওড়গ্রামের বিঘনাহার পাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল চুরি নিয়ে অশান্তি থেমে গেলেও পাড়ারই কয়েকজন এই নিয়ে ফের ঝামেলা শুরু করে। বৃহস্পতিবার, বাবলুর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে শাসাতে শুরু করে চারজন। মোবাইল চুরির প্রসঙ্গ তুলে বাবলুকে নানা কটূ কথা বলা হয় বলেও দাবি পরিবারের। এই নিয়ে ফের ঝামেলা শুরু হয়। প্রথমে বচসা, তারপরে বাবলুর সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হযে যায় চারজনের। অভিযোগ, এই সময় ওই চারজন বাঁশ দিয়ে পেটাতে থাকে বাবলুকে। তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওড়গ্রামেরই বাসিন্দা সোম টুডু, মাতাল হেমব্রম, কানাই হেমব্রম এবং সুনীল টুডুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চারজনের নামেই থানায় ডায়রি করেছিলেন নিহত বাবলুর স্ত্রী সুমিতা মুর্মু। অভিযুক্তদের দাবি বাবলুই নাকি তাদের উত্তেজিত করেছিল। বঁটি নিয়ে মারতেও গিয়েছিল। ধৃত কানাইয়ের দাবি, ঝগড়ার চলার সময় বাবলু নাকি বাড়ির ভিতর থেকে বঁটি নিয়ে এসে তার হাতে কোপ মারে। এরপর ফের তাকে কোপানোর চেষ্টা করলে বাধা দেয় বাকি তিনজন। অভিযোগ, সকলকেই নাকি বঁটি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করছিল বাবলু। আত্মরক্ষার জন্যই নাকি তারা বাঁশ দিয়ে তাকে মারে। এই সময় মাথায় লেগে মৃত্যু হয় বাবলুর।
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।