বসিরহাটে সম্প্রীতির অনন্য নজির, হিন্দু যুবকের শেষকৃত্য মুসলিম ভাইদের হাতে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার মাটিতে সবসময়ই সম্প্রীতির হাওয়ায় ঘুরে বেড়ায়। ওপার বাংলায় যখন দুর্গাপুজো ঘিরে হিন্দুদের ওপর মৌলবাদী হামলায় উত্তাল, তখন এপার বাংলায় দেখা গেল অন্য এক সম্প্রীতির (Harmony) চিত্র। হিন্দু যুবকের সৎকারে এগিয়ে এলেন একদল মুসলম
শেষ আপডেট: 19 October 2021 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার মাটিতে সবসময়ই সম্প্রীতির হাওয়ায় ঘুরে বেড়ায়। ওপার বাংলায় যখন দুর্গাপুজো ঘিরে হিন্দুদের ওপর মৌলবাদী হামলায় উত্তাল, তখন এপার বাংলায় দেখা গেল অন্য এক সম্প্রীতির (Harmony) চিত্র। হিন্দু যুবকের সৎকারে এগিয়ে এলেন একদল মুসলমান যুবক।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বাদুড়িয়ার নারকেলবেরিয়া গ্রামে। করোনা আবহে এমনিতেই দূরত্ব রেখেছে সবাই। সেখানে মৃত্যুও দুরত্বের পাঁচিল ভাঙতে পারেনি অনেক ক্ষেত্রে। তেমনই ঘটনা ঘটেছে বাদুড়িয়ার নারকেলবেরিয়া গ্রামের রায় পরিবারের সঙ্গে। মা ও ছেলে গ্রামের এক চিলতে ঘরে বাস করতেন। লকডাউনের সময় কাজ চলে যায় হিমন রায়ের (২৭)। মা করুণা রায়ের সেলাইয়ের টাকায় কোন রকমে টেনেটুনে সংসার চলত দুইজনের। অসুস্থ হিমনকে বুকে টেনে বেঁচে আছেন করুণা দেবী।
হিমন রায়ের মৃত্যু বেঁচে থাকার শেষ আশার প্রদীপটাও নিভিয়ে দেয়। সোমবার বাড়িতেই মৃত্যু হয় হিমনের। তবে মৃত্যুর পর করুণা দেবীকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন না কেউ। ছেলের দেহ কিভাবে সেই নিয়ে সমস্যায় পড়েন তিনি। অবশেষে হিমনের দেহ সৎকারের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন এলাকারই একদল মুসলমান যুবক।
আরও পড়ুন:
মন্দির ফির বানায়েঙ্গে! এবার কর্নাটকের জুম্মা মসজিদ নিয়ে দাবি শ্রীরাম সেনার
নিজেদের উদ্যোগেই সব ব্যবস্থা করেন তাঁরা। খোল, কর্তাল, খঞ্জনী বাজিয়ে হরিনাম করতে করতে হিমনের দেহ কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যান তাঁরা। হিন্দু শাস্ত্র মতেই সম্পন্ন করেন সব কাজ। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর পর যাবতীয় কাজকর্মের দায়িত্বও তাঁরা নেন। নিজেদের খরচেই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করবেন তাঁরা।
বিপদের সময় এই মুসলমান যুবকের ঋণ ভুলতে পারবেন না বলে জানান করুণা দেবী। তিনি বলেন, "আমার পাশে কেউ নেই। প্রতিবেশী মুসলিম ভাইরা এগিয়ে এসে সৎকার করল। এই ঋণ ভোলার নয়।"
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নিয়ে যখন সারা বিশ্ব আলোচনা শুরু করে দিয়েছে, তখন বসিরহাটের এই ঘটনা প্রমাণ করল এখনও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মরে যায়নি। এভাবেই বেঁচে থাকুক মানবিকতা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'