
শেষ আপডেট: 15 April 2023 05:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: পিঠে বিশাল টাকার ঋণের বোঝা। কীভাবে টাকা শোধ করবেন, তা বুঝে উঠতে না পেরে শেষে আত্মঘাতী হলেন ঘাটালের (Ghatal) দম্পতি (couple)। কিন্তু সন্তানের কী হবে? তাকে কে দেখভাল করবে? দায়গ্রস্ত হলেও এসব চিন্তাও মাথার মধ্যে ছিল। তাই সুইসাইড নোটে পরিবারের সেই খুদে সদস্যকে সামলে রাখার কথাও লিখে গেলেন দু'জন। এই সন্তান আসলে বাড়ির পোষ্য কুকুর (pet dog)। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের আলমগঞ্জে।

গোল্ডেন রিট্রিভার জাতের ওই কুকুরটির নাম জ্যাঙ্গো। ছোট থেকে সে যাদের কাছে বেড়ে উঠেছে, এখন তাঁদেরই আর দেখতে পাচ্ছে না। তাই স্বাভাবিকভাবেই সারাদিন মন মরা হয়ে শুয়ে থাকছে ঘরের মেঝেতে। কিন্তু জ্যাঙ্গো যাতে অনাথ হয়ে না পড়ে, আত্মঘাতী হওয়ার আগে সে কথাও ভেবেছিলেন মৃত দম্পতি। তাই সুইসাইড নোটে লিখে গিয়েছেন জ্যাঙ্গোকে দেখভালের কথা। সে কী খায়, কখন খায়, কতটুকু খায় সমস্ত কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ রয়েছে ওই চিঠিতে।

জানা গিয়েছে, মৃত দম্পতি ঘাটাল পুর এলাকার আলমগঞ্জের বাসিন্দা। স্বামী ছিলেন পেশায় ওষুধ বিক্রেতা। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ঋণের দায়েই আত্মহত্যা করেছেন, এমনটাই লিখে গিয়েছেন সুইসাইড নোটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ঘাটাল থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ওই সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়। তা দেখেই স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুলিশ থেকে এলাকার মানুষজন।

সেখানে তিনি যেমন নিজেদের আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করেছেন, তেমনই রয়েছে নিজেদের পোষ্য কুকুরের কথাও। তাঁরা যাকে ডাকতেন জ্যাঙ্গো বলে। দু'জনের মৃত্যুর পর জ্যাঙ্গোর ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই নিয়ে খানিক দুশ্চিন্তা ছিলই। জ্যাঙ্গো যাতে অনাথ হয়ে না পড়ে, তাই তাকে দেখভাল করার কথাও লিখে গিয়েছেন। তাতে লেখা রয়েছে, জ্যাঙ্গোকে যেন কোনও সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও সে কখন কী খাবার খায়, কোন ডাক্তার তাকে দেখতেন, এসব কিছুরই উল্লেখ রয়েছে সেই চিঠিতে। বর্তমান জ্যাঙ্গোর বাসস্থান কোথায় হবে, সেটা নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তায় পুলিশ।
নববর্ষে নতুন রেকর্ড! শহরে তাপমাত্রার পারদ ছুঁল ৪১ ডিগ্রি, দহনজ্বালা উত্তর থেকে দক্ষিণে