
শেষ আপডেট: 24 June 2023 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরও বর্ষার সময় খুব উৎপাত করেছিল এই পোকা। বৃষ্টি নামলেই স্ক্রাব টাইফাসের উপদ্রব বাড়ে। ছোট ছোট লাল লাল পোকা। পশুদের গায়ে দেখা যায়, ঝোপেঝাড়ে ঘাপটি মেরে থাকে। দেখতে অনেকটা এঁটুলি বা টিক পোকার মতো (Scrub Typhus)। এই পোকার কামড়ে যে এত বিষ তা শুরুতে বোঝাই যাবে না। কামড়ের পরেও লক্ষণ প্রকাশ পাবে না। কিন্তু সাত থেকে দশ দিন পরেই খেল দেখাতে শুরু করবে সেই টিক পোকা। বাচ্চাদের কামড়ালে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। কোলাঘাটের একটি শিশুর শরীরে স্ক্রাব টাইফাস ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। বর্ষার মরসুম এসেছে, তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকতে বলছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
ছোট এক ধরনের পোকার কামড়ে এই রোগ হয়। সেই পোকার কামড়ের দাগ এই রোগ চেনার একটি উপায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। স্ক্রাব টাইফাস (Scrub Typhus) হল একধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। এই ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের উকুন থেকে ছড়ায় এর নাম ‘ট্রম্বিকিউলি়ড মাইটস’। এই পোকাগুলির আকার ০.২ মিলিমিটার থেকে ০.৪ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়। সংক্রমণ হলে ধূম জ্বর, সঙ্গে বমি, পেট খারাপের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এখন বাচ্চাদের জ্বর হলেই গায়ে ব্যথা, বমি, পেশির খিঁচুনি ও শ্বাসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সাধারণত কৃষি জমিতে এই ধরনের পোকা দেখা যায়। যদিও শহুরে এলাকায় বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে ঝোপ-ঝাড়, গাছপালা কিংবা পোষ্যের গায়ে এই ধরনের পোকার দেখা মেলে। পশুর শরীর থেকেও ছড়াতে পারে এই ধরনের পোকা।
পোকা কামড়ানোর পাঁচ-সাত দিন পরে জ্বর আসে।
কামড়ের দাগ, র্যাশ, লালচে ফোলা ভাব, ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো লাল দাগ (Scrub Typhus), হাত-পা ব্যথা, শুকনো কফ ও বমি হতে পারে।
পোকার কামড়ের জায়গাতে অনেক সময় কালো পোড়া দাগ দেখা যায়।
ডেঙ্গি এবং স্ক্রাব টাইফাসের রোগের লক্ষণ অনেকটা একই। তাই অনেক সময় রোগ নির্ণয়ে সমস্যা হয়। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ওই পোকা কামড়ালে প্রথমে কিছু বোঝা যায় না, পরে প্রবল জ্বর আসে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে সব অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে থাকে। জ্বরের ধরন ও পোকা কাটা স্থানের ক্ষত দেখে রোগীদের চিহ্নিত করা হয়।
জ্বরের পাঁচ থেকে সাত দিন পরেও রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়া ধরা না পড়লে সতর্ক হতে হবে। স্ক্রাব টাইফাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি না, পোকায় কাটা দাগ বা লাল ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে কিনা নজর রাখতে হবে। এই পোকার কামড়ে মাংসগ্রন্থি ফুলে ওঠে, ত্বকে ক্ষত হতে পারে। এইসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে।