
শেষ আপডেট: 12 September 2023 05:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: সূর্য ডুবে গেছে অনেকক্ষণ হল। কাজ সেরে তখনও বাড়ি ফেরার ফুরসত হয়নি বাবা-মার। ৭ বছরের সুনীল যদিও সেসবে অভ্যস্ত। তাই রোজকার মতো সোমবার সন্ধ্যার পর বাড়ির উঠোনে একাই বসে আনমনে খেলা করছিল সে। খেলায় এমনই মগ্ন ছিল, যে নজরেও পড়েনি, কয়েকহাত মাত্র দূরে ওঁৎ পেতে বসে রয়েছে সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত। ঝোপের আড়ালে বসে অতি সন্তর্পণে তাকেই নিশানা করছে। তারপর আচমকাই এক লাফ। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভয়াল শিকারির ধারালো দাঁতের ফাঁকে উঠে এল ৭ বছরের ছোট্ট সুনীল। তার ঘাড় কামড়ে ধরেই পাশের গভীর জঙ্গলে দৌড়ে পালাল ক্ষিপ্র চিতাবাঘ (Leopard attack at Alipurduar)!
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাতের অন্ধকারে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে ছিল চিতাবাঘটি। সুনীলের ঘাড়ে কামড় দিয়ে টানতে টানতে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে। কিন্তু ততক্ষণে গ্রামবাসীদের চোখে পড়ে গেছে সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য, তাঁদের চিৎকারে প্রায় ১০০ মিটার দূরে টেনে নিয়ে গিয়েও শেষমেশ সুনীলকে ফেলে জঙ্গলে পালিয়ে যায় মানুষখেকো চিতাবাঘটি।
রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সুনীলকে বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান গ্রামবাসীরা। কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সুনীলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় বীরপাড়া গ্রামে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জলপাইগুড়ি বন বিভাগের দলগাঁও রেঞ্জের বনকর্মীরা। কিন্তু তাঁদের গ্রামে ঢুকতে দেখেই গ্রামবাসীরা ঘিরে ধরেন। বিক্ষোভ দেখান। বারবার কেন হিংস্র পশুর হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সেই নিয়ে প্রশ্নও তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। প্রতিবাদের মাঝে বনকর্মীরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন, তারপর শান্ত হন লোকজন। বস্তুত, মাঝেমধ্যেই কখনও চিতাবাঘ, কখনও বা হাতির হামলায় মাঝে মধ্যেই প্রাণ হারান আলিপুরদুয়ারের মানুষ। এর সমাধান কী, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিকে ফেল করে বাড়ি থেকে পালিয়ে ছিল ছেলে, ২৩ বছর পর ঘরে ফিরল