
শেষ আপডেট: 13 October 2022 09:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যবিত্ত বাঙালির ভ্রমণ মানেই 'দিপুদা'! দিঘা, পুরী ও দার্জিলিং। কিন্তু সেই দীর্ঘ রেওয়াজেই এবার দাঁড়ি পড়ার জোগাড়। বাঙালি পর্যটকদের কাছে ক্রমশই আতঙ্ক হয়ে উঠছে পুরী (Puri Robbery)। কখনও ট্রেনে, আবার কখনও পুরীর বুকে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। পরিবার নিয়ে পুরী বেড়াতে গিয়েছিলেন চুঁচুড়ার (Chunchura) সৌমিত্র সিংহ। তাঁর মেয়ের হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে স্কুটিতে করে চম্পট দেয় দুই দুষ্কৃতী। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করলেও গ্রেফতার করা যায়নি।
গত শনিবার হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার কর্মী সৌমিত্রবাবু স্ত্রী মৈত্রেয়ী দে সিংহ ও মেয়ে তৃজিতাকে নিয়ে পুরী যান। গতকাল, অর্থাৎ বুধবার নীলাচল হোটেল তাঁরা সপরিবারে মধ্যাহ্নভোজ সারতে গিয়েছিলেন। খেয়েদেয়ে ফেরার সময় একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। সেই সময় হঠাৎই একটি সাদা স্কুটিতে করে দুই ছিনতাইবাজ এসে তৃজিতার হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। ব্যাগে বেশকিছু নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল। এই ঘটনায় বাঙালি পরিবারটি প্রাথমিকভাবে হতভম্ব হয়ে পড়ে। সেই ঘোর কাটতেই চোর চোর চিৎকার করে দৌড় দেয় চোরেদের পেছনে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। ততক্ষণে ছিনতাইবাজরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এরপর পরিবার নিয়ে পুরীর স্থানীয় থানায় যান সৌমিত্র সিংহ। সেখানে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ছিনাতাইকারীদের চিহ্নিত করে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্ধার হয়নি খোয়া যাওয়া মোবাইল ও টাকা। এই ঘটনার পরই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে বাঙালি পরিবারটি। দেরি না করে বৃহস্পতিবারই চুঁচুড়ায় ফিরে আসেন তাঁরা।
দুর্গাপুজোর ঠিক মুখে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শিয়ালদহ-পুরী দুরন্ত এক্সপ্রেসে ছিনতাইয়ের শিকার হয় আর একটি বাঙালি পরিবার। বারাসতের ব্যবসায়ী অভিজিৎ আচার্য পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। প্যান্ট্রি স্টাফের পোশাক পরে দুজন ট্রেনে উঠে তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ নিয়ে নেমে চম্পট দেয়।
একের পর এক ঘটনায় পুরী যাওয়া নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে বাঙালি পর্যটকদের মধ্যে। শ্রীরামপুর থেকে পুরী গেছেন শ্রেষ্ঠা সরকার। সব ঘটনা শুনে তিনি বলেন, "ভীষণ আতঙ্কিত আমরা। এতবার পুরী এসেছি এমন ঘটনা দেখিনি। শুনলাম গত তিন সপ্তাহে বেশ কয়েকটা একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।"
ডায়মন্ড হারবারে গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু! খুন না আত্মহত্যা, তদন্তে পুলিশ