দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার অনলাইন প্রতারণার শিকার শ্রীরামপুরের এক মহিলা। ফোন পের নাম নিয়ে কল করে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে প্রায় লাখ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক!
মুক্তা মুখোপাধ্যায় নামের প্রতারিত ওই মহিলার ওষুধের দোকান রয়েছে শ্রীরামপুরের শিরিষতলায়। ব্যবসার কাজে তাঁকে প্রায়ই ফোন পে ব্যবহার করতে হয়। সেই ফোন পের নাম নিয়েই মুক্তার কাছে ফোন আসে মঙ্গলবার। প্রতারক বলে, সে ফোন পে থেকে বলছে, মুক্তা মুখোপাধ্যায় ১২০০ টাকা ক্যাশব্যাক পেয়েছেন।
মুক্তার মোবাইলে সঙ্গে সঙ্গে একটি মেসেজও আসে। কিউআর কোড স্ক্যান করাতে বলা হয় তাঁকে। মুক্তা তখন ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। কিন্তু আবার তাঁকে ফোন করে একই কথা বলা হয়। বিশ্বাস না করায় তাঁর ফোন পে-তে সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে মেসেজ দেয় প্রতারক। এরপর পুলিশের ভয় দেখালে প্রতারক বলে এখনই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা সরিয়ে নেওয়া হবে।
প্রতারক আরও বলে, তারা যে টাকা দিয়েছে সেই টাকা যেন ফেরত দেওয়া হয়। মুক্তা বলেন তাঁর দোকানে এসে টাকা নিয়ে যেতে। কিন্তু প্রতারক করোনার অজুহাত দিয়ে কথা বলে যেতে থাকে, আর বলতে বলতেই সাত হাজার টাকা সরিয়ে নেয়। এদিকে টাকা তোলার মেসেজ আসতেই ভয় পেয়ে যান মুক্তা।
টাকা ফেরাতে তখন এনি ডেস্ক অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলে প্রতারক। তার পরে ফের কয়েক মিনিট কথা বলতে বলতেই ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক।
এতেই হতম্ভব হয়ে যান মুক্তা। সঙ্গে সঙ্গে শ্রীরামপুর থানা ও চন্দননগর পুলিশের সাইবার সেলে অভিযোগ জানান। মুক্তার স্বামী শংকর মুখোপাধ্যায় বলেন, সাইবার প্রতারণার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, নয়তো আগামী দিনে এমন ঘটনা বেড়েই চলবে। পুলিশ তদন্তে নেমেছে।
যেভাবে নিত্যনতুন অনলাইন প্রতারণার ছক বের করছে প্রতারকরা তাতে সাধারণ মানুষ এখন অ্যাপ ব্যবহার করতেই ভয় পাচ্ছেন। সাধারণের অজ্ঞতার সুযোগেই জাঁকিয়ে বসছে সাইবার প্রতারণা চক্র।