
শেষ আপডেট: 6 June 2023 15:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষা আসছে সামনেই। যদিও তাতে গরমের কমতি নেই। তবে এই সময় ছুটির সদ্ব্যবহার করে অনেকেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়ছেন। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী হন, তাহলে জঙ্গল সাফারি হয়ে উঠতে পারে ছুটি কাটানোর আদর্শ সুযোগ। ঘন গাছের ফাঁকে বাঘ-সিংহ-হাতি-হরিণ কিংবা ময়ূরের মতো বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ তো আর যখন তখন মেলে না। আপনার জন্য ভারতের নানা রাজ্য মিলিয়ে সেরা ৮টি জঙ্গল সাফারির খোঁজ রইল।
১. নগরহোল ন্যাশনাল পার্ক: কর্নাটকের এই জাতীয় উদ্যান রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক হিসাবেই বেশি পরিচিত। কর্ণাটকের মাইসোর মালভুমি থেকে তামিলনাড়ুর নীলগিরি পর্বত পর্যন্ত ২৪৭ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ন্যাশনাল পার্কটি। উদ্যানের গা ঘেঁষেই বয়ে চলেছে কবিনী নদী। সেই নদীর আশেপাশেই বাস অজস্র জীবনজন্তু এবং পাখির। এখানে দেখা মিলবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং এশিয়াটিক হাতির। এছাড়া লেপার্ড, শ্লথ ভালুক, হায়না, গউর, সম্বর হরিণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে।
বন দফতরের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ২ বার সাফারি করানো হয়। টিকিটের দাম মাথাপিছু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

২. বন্দিপুর ন্যাশনাল পার্ক: এটিও কর্ণাটকেই অবস্থিত। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে গড়ে ওঠা বন্দিপুর জাতীয় উদ্যান জীবনজন্তুর বৈচিত্র ছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এটি চামারাজানগর জেলায় মাইসোর-উটি হাইওয়ের উপর অবস্থিত। এটির অন্য পাশে রয়েছে আরও ৩টি উদ্যান- নগরহোল ন্যাশনাল পার্ক, কেরলের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, এবং তামিলনাড়ুর মুদুমালাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এই ৪টি অভয়ারণ্য এবং জাতীয় উদ্যান মিলিয়ে নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের একটা বড় অংশ গড়ে উঠেছে।
বাঘ, হাতি, শ্লথ ভালুক ছাড়াও এখানে রয়েছে বেশ কিছু বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। রয়েছে শিয়াল, রক পাইথন, মাগার, ৪ সিং বিশিষ্ট অ্যান্টিলোপ। এখানে বাস এবং জিপ- দুরকম সাফারিরই সুযোগ রয়েছে। রোজ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সাফারি করানো হয়। বাস সাফারিতে ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। জিপ সাফারির সময় ২-৩ ঘণ্টা। বাস সাফারির খরচ মাথাপিছু ৩৫০ টাকা, জিপ সাফারির খরচ জিপ-পিছু ৩০০০ টাকা।
৩. দরোজি শ্লথ ভালুক অভয়ারণ্য: কর্নাটকের হাম্পির ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষের কাছেই অবস্থিত এই অভয়ারণ্যটি। মূলত শ্লথ ভালুকের রক্ষানাবেক্ষনের উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়াও এখানে বুনো ভালুক, ময়ূর, হায়না, প্যাঙ্গোলিন, বেজি, লেপার্ড, সজারু এবং অন্তত ১০০ প্রজাতির প্রজাপতি ও পাখি রয়েছে।
যেহেতু শ্লথ ভালুকরা রাতচরা প্রাণী, তাই অভয়ারণ্যটি খোলা থাকে প্রতিদিন বিকেল ৪তে থেকে ৬টা পর্যন্ত। সাফারি এবং গাইডেড ট্যুর ছাড়াও এখানে রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার, যেখান থেকে বন্য জন্তুদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। ২ ঘণ্টার সাফারিতে খরচ মাথাপিছু ৫০ টাকা।

৪. মহাদেই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: গোয়ার ভালপইয়ের কাছে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যটি ১৯৯৯ সালে প্রথমবার চালু হয়েছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। এখানে রয়েছে বিরল ব্ল্যাক প্যান্থার, বুনো ভালুক, বুনো শুয়োর, গউর, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, বিষাক্ত সাপ, উড়ুক্কু কাঠবেড়ালি সহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠবেড়ালি, বাঘ, ভাম ইত্যাদি। এর ভিতরেই রয়েছে মহাদেই নদী। অভয়ারণ্যটির ভিতরে রয়েছে বিশালাকার গাছ।
এখানে যাওয়ার সেরা সময় হল বর্ষাকাল। এই সময় নদীতে র্যাফটিং, ট্রেকিং এবং রক ক্লাইম্বিং করা হয়। ২ ঘণ্টার সাফারিতে যাওয়ার কোনও খরচই নেই। বস্তুতই বিনামূল্যে ঘুরে দেখা যায় এই অভ্যয়ারণ্য।
৫. রণথম্বোর ন্যাশনাল পার্ক: রাজস্থানের এই জাতীয় উদ্যানটি জীব বৈচিত্র এবং জঙ্গল সাফারির জন্য বিখ্যাত। বাঘ ছাড়াও এখানে হয়েছে নীলগাই, হায়না, লেপার্ড, সম্বর হরিণ, চিতল হরিণ, লাঙ্গুর এবং কুমির।
বর্ষায় এই জাতীয় উদ্যানের সব এলাকাগুলি খোলা থাকে না। তবে বাঘের কয়েকটি বাসস্থান সহ বেশ অনেকটা অংশই সারা বছর পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। সাড়ে ৩ ঘণ্টার সাফারিতে মাথাপিছু খরচ ১৭০০ টাকা।

৬. পেরিয়ার ন্যাশনাল পার্ক: কেরলের এক জাতীয় উদ্যান অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। পশ্চিমঘাট পর্বতমালকার গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই ন্যাশনাল পার্কে দেখা মিলবে বাঘ, হাতি, একাধিক প্রজাতির হরিণ, বুনো কুকুর। রয়েছে মাছরাঙা, দ্য গ্রেট মালাবার হর্নবিল থেকে শুরু করে নানা প্রজাতির পাখি। জিপ সাফারি ছাড়াও এখানে এলিফ্যান্ট সাফারি অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে জঙ্গলে ঘোরার সুযোগ রয়েছে। রয়েছে বোট ক্রুজের সুযোগও।
এখানে ভোর ৫.৩০ থেকে দুপুর ৩.৩০ পর্যন্ত সাফারি করানো হয় প্রতিদিন। ৬ জনের জিপ সাফারির খরচ ২৫০০ টাকা।

৭. জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক: উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালের হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যানটি ভারতের প্রথম ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও লাঙ্গুর, শ্লথ ভালুক, হাতি, বুনো শুয়োর, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, বেজি, ভালুক, বনবেড়াল রয়েছে এখানে। এছাড়া অন্তত ৬০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে এই জাতীয় উদ্যানে। ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফারদের অন্যতম পছন্দের জায়গা এই জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক।
পার্কের ভিতরে জিপ এবং ক্যান্টার সাফারি হয়। ৬ জন লোকের জন্য জিপ সাফারির খরচ ৫০০০ টাকা।

৮. তাডোবা ন্যাশনাল পার্ক: মহারাষ্ট্রের এই জাতীয় উদ্যানটিকে অনেকেই তাডোবা আন্ধেরি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচত। প্রকৃতি এবং পশুপ্রেমীদের জন্য এই ন্যাশনাল পার্কটি একেবারে স্বর্গরাজ্য বলা যায়। এখানে বাঘ তো রয়েছেই, সঙ্গে রয়েছে প্যান্থার, শ্লথ ভালুক, হায়েনা, শিয়াল, হরিণ বাইসন এবং আরও অনেক কিছু। পাইথন এবং কুমির ছাড়াও আরও অনেক সরীসৃপও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে শয়ে শয়ে প্রজাতির পাখি এবং প্রজাপতি।
এখানে জিপ সাফারির সুযোগ রয়েছে। ৪ ঘণ্টার সাফারিতে একটি জিপে সর্বোচ্চ ৬ জন উঠতে পারেন। খরচ জিপ-প্রতি ৫৫০০ টাকা।
আর দেরি কেন? পাহাড়-নদী-জঙ্গল-সমুদ্র তো দেখলেন অনেক। এবার সময় বের করে বেরিয়ে পড়ুন জঙ্গল সাফারিতে। কাছ থেকে বাঘ, হাতি, ভালুক, লেপার্ড, প্যান্থার সহ বন্যপ্রাণীদের দেখা পাওয়া, ছবি তোলা তো হবেই, উপরি পাওয়া প্রকৃতির কোলে কয়েক ঘণ্টা নির্ভাবনায় কাটানো।
গাঁজা কেসে ধরতেন সেলিব্রেটিদের, আরিয়ানের জন্য শাহরুখের কাছে ঘুষ চাওয়া সমীর আরএসএসেরও ঘনিষ্ঠ