দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: কর্তব্যরত অবস্থায় গুলিতে মৃত্যু হল জেলা পুলিশের এক কনস্টেবলের। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চোপড়ার দলুয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে রাত পাহারার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানান, গানশট ইনজুরিতেই ওই পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের প্রাথমিক অনুমান। পুরো বিষয়টির তদন্ত চলছে।
পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত কনস্টেবলের নাম সাবির আলম (৪০)। চোপড়া থানাতেই কর্তব্যরত ছিলেন তিনি। এ দিন রাতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ও পূর্ত সড়কের সংযোগস্থলে কালাগছ মোড়ের কাছে মোবাইল জিপে নজরদারি চালাচ্ছিলেন। ওই গাড়িতেই ছিলেন পুলিশের আরও তিনজন কর্মী ও এক আধিকারিক।
পুলিশ জানিয়েছে, রাত তখন প্রায় আড়াইটে। আচমকাই একটি ফোন পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে গিয়েছিলেন সাবির আলম। কয়েক মিটার দূরে দাঁড়িয়ে তাঁকে ফোনে কথা বলতে দেখেছিলেন তাঁর সহকর্মীরা। হঠাৎই গুলির শব্দ শুনতে পান তাঁরা। নেমে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছেন তিনি। আলো আঁধারিতে দু'জনকে পালিয়ে যেতে দেখেন বলেও তাঁদের দাবি।
সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে নিয়ে যান লাগোয়া দলুয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের বড়কর্তারা। ভোরের আলো ফুটলে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয় ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে।
নিহত পুলিশকর্মীর বাড়ি চাকুলিয়ার গন্ডাল গ্রামে। তাঁর এমন হঠাৎ মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে দিশাহারা গোটা পরিবার। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা। জেলার পুলিশসুপার সুমিতকুমার পরিবারের দাবি মেনে সঠিক তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ দিকে টহলরত অবস্থায় পুলিশ কর্মীর এমন মৃত্যুতে আতঙ্কিত চোপড়ার বাসিন্দারা। দুষ্কৃতীরা যদি এত বেপরোয়া হয়, তবে তাঁদের নিরাপত্তা কোথায়, সেই আশঙ্কাতেই ভুগছেন তাঁরা।।