দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : ভোররাতে বিধ্বংসী আগুন লেগেছিল বীরপাড়া বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায়। রীতিমতো যুদ্ধ করে সেই আগুন নিভিয়েছিলেন দমকলকর্মীরা। মাস ঘুরতে তারই জন্য ২৫ হাজার টাকার বিল পাঠানো হল ব্যবসায়ীদের। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। অর্থ মুকুবের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠিও পাঠাচ্ছেন বীরপাড়ার ব্যবসায়ীরা।
৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে আগুন লাগে বীরপাড়া বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায়। আগুনে সাতটি দোকান ও কয়েকটি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। খবর পেয়ে, আলিপুরদুয়ার, হ্যামিলটনগঞ্জ, ফালাকাটা ও ধুপগুড়ি থেকে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী তপন মিত্র ও রাজেশ মিশ্রর নামে আগুন নেভোনোর জন্য ২৪ হাজার ৩৮৭ টাকার বিল পাঠায় ধুপগুড়ি দমকল বিভাগ। সেই চিঠি পেয়ে হতচকিত ব্যবসায়ীরা। এই বাজারেরই ব্যবসায়ী মান্নালাল জৈন বলেন, “ আমরা সকলেই খুব গরীব। তারউপর আগুনে সর্বস্ব গিয়েছে। আমরা কোনওভাবেই টাকা দিতে পারব না। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাচ্ছি আমরা। দমকলমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হচ্ছে।”
দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ২০০৩ এর দমকল আইন অনুযায়ী কোনও ব্যবসায়িক এলাকার আগুন নেভানো হলে তার জন্য চার্জ দাবি করতে পারে দমকল। জলপাইগুড়ির বিভাগীয় আধিকারিক আশিস পূততুন্ড বলেন, “সরকারি আইন অনুসারে কোনও ব্যবসায়িক এলাকার আগুন নেভানো হলে তার জন্য দমকল বিভাগ চার্জ চাইতে পারে। সরকারি ডিমান্ড নোটিস পাওয়ার পর এই অর্থ অনলাইনে সরকারকে জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সেই অনুযায়ী এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। এ বার ব্যবসায়ীরা কী করবেন, সেটা তাঁদের বিষয়।”
ব্যবসায়ীরা অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের সামর্থ্য নেই, তাই কোনওভাবেই আগুন নেভানোর বিল মেটাতে পারবেন না তাঁরা।