
শেষ আপডেট: 14 February 2021 09:12
যদিও আগাম ঘোষণা ছিল, তবু রবিবার সকাল থেকে ব্যারেজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি জানা থাকলেও বাইরে থেকে আসা মানুষদের সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবু আজ রবিবার ছুটিদিন থাকায় নিত্য যাত্রীর সংখ্যা কম ছিল। তবে পর্যটক বা ভিন্ন রাজ্য থেকে আসা মানুষের সংখ্যাই ছিল বেশি। তাই ব্যারেজ বন্ধ থাকায় কম সময়ে নদী পারাপারের জন্য খেয়ার বা ভুটভুটি নৌকাই ছিল একমাত্র পথ। তবে সড়ক যোগাযোগের জন্য রাণীগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের দিকে গাড়িগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেজিয়া হয়ে বাঁকুড়া যাচ্ছে গাড়িগুলি।
সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় সিং জানান, সমস্যা কিছুটা হলেও সেতুটি ঠিক বন্ধ রাখতে হবেই আপাতত। স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজনী হয়ে পড়েছে। সেতুটির বয়স হয়েছে। মোটামুটি ৫০ বছর হিসাব টেনে এই ধরণের সেতুর কাঠামো তৈরি করা হয়। এই সেতুর ক্ষেত্রের তাই হয়ে ছিল। কিন্তু এটির ৫০ পেরিয়ে ৬৫ বছরের হয়ে গিয়েছে। যে সময়ে সেতুটি তৈরি করা হয়ে ছিল, সেই সময় এটির ওপর দিয়ে এত গাড়ি চলাচল করত না। কিন্তু বর্তমানে গাড়ি চাপ বেড়েছে। ফলে শক্তি কমেছে সেতুর। তাই আজ সারা দিন এটির ধারণক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা চালাবেন ইঞ্জিনিয়ারা। পরে তারা যা রিপোর্ট দেবেন, তাতে ভিত্তি করে সেতুটির ওপর দিয়ে গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুলিশ প্রশাসন দেখছে যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়।
উল্লেখ্য গত ডিসেম্বরে ৩১ নম্বর লকগেটটি ভেঙে ব্যারেজের জল বের হতে থাকায় এক সপ্তাহ ধরে দুর্গাপুর ও বাঁকুড়ার মানুষ জলকষ্ট ভুগেছিল। এরপরেই ব্যারেজটি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার ও দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন। ব্যারেজ সংস্কার নিয়ে এরপরেই উদ্যোগী হয় দুপক্ষ। তাই সম্প্রতি সত্তর ছুঁই ছুঁই ব্যারেজের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হচ্ছে। এবার সেই পরীক্ষার ফলাফল থেকে ব্যারেজের সংস্কারের কাজ হবে।