বিদ্যাসাগরের বীরসিংহে নিরক্ষর ছিলেন ৬৩ জন, অবশেষে ঘুচল অন্ধকার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ (Birsingha) গ্রাম। এই গ্রামেই জন্মেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (Iswarchandra Vidyasagar)। গোটা দেশ যাঁকে বিদ্যাসাগর বলে চেনে। কিন্তু বিদ্যার সাগর যিনি, তাঁর গ্রামেই অশিক্ষার অন্ধকার লেপটে ছিল
শেষ আপডেট: 28 September 2021 07:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ (Birsingha) গ্রাম। এই গ্রামেই জন্মেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (Iswarchandra Vidyasagar)। গোটা দেশ যাঁকে বিদ্যাসাগর বলে চেনে। কিন্তু বিদ্যার সাগর যিনি, তাঁর গ্রামেই অশিক্ষার অন্ধকার লেপটে ছিল এতদিন। বীরসিংহে এই ২০২১ সালেও নিরক্ষর ছিলেন ৬৩ জন। সম্প্রতি তাঁদের সে অন্ধকার ঘুচেছে।
মিসাইল নিয়ে সীমান্তে উড়বে ইজরায়েলি যোদ্ধা ড্রোন হেরন টিপি, শক্তি বাড়ছে তিন বাহিনীর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০২ তম জন্মদিন পালিত হচ্ছে এবছর। সেই উপলক্ষ্যে বীরসিংহ গ্রামে সকলকে স্বাক্ষর করে তোলার প্রয়াস নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার বিকেলে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দিরে একটি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। ৬৩ জনই সেই পরীক্ষায় বসেন। তাঁদের নিজেদের নাম এবং গ্রামের নাম লিখতে দেওয়া হয়েছিল। সকলেই পরীক্ষায় পাশ করেছেন।
মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস এবং দায়িত্বে থাকা বীরসিংহ ভগবতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শক্তিপদ বেরা এই পরীক্ষা নিয়েছিলেন। সকলেই নিজের নিজের নাম লিখতে পেরেছিলেন। তবে গ্রামের নাম সকলে লেখেননি। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওই ৬৩ জনের হাতে সার্টিফিকেট ও বেশ কিছু বই তুলে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার্থীরা যাতে আগামী দিনেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
বিদ্যাসাগরের ২০০ তম জন্মদিন ২০১৯ সালে ঘটা করে পালন করেছিল রাজ্য সরকার। সেই সময় বীরসিংহ গ্রামের ৬৩ জনকে নিরক্ষর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এঁদের মধ্যে ৫৫ জনই মহিলা, বাকি ৮ জন ছিলেন পুরুষ যাঁরা নিজের নাম সই করতে পারেন না। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে গ্রামে চালু হয়েছিল সাক্ষরতা পাঠশালা। ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক শক্তিপদ বেরা দায়িত্ব নিয়ে ক্লাস শুরু করেছিলেন।
কিন্তু বাঁধ সাথে কোভিড। গতবছর মার্চ মাস থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ক্লাস। চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস, সেদিন থেকে আবার পাঠশালা শুরু হয়। বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে এলাকায় ১২ আশ্বিন বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন করা হয়ে থাকে। সেদিনের মধ্যেই ৬৩ জনকে সাক্ষর করে তোলার ব্রত নিয়েছিলেন প্রশিক্ষকেরা। প্রধান শিক্ষক শক্তিপদ বেরা বলেন, "জেলা শাসকের নির্দেশে পাঠশালা শুরু হলেও কোভিডের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাসের নির্দেশে পাঠশালা শুরু করা হয়েছে। মণ্ডল পাড়া, সাঁতরা পাড়া, আশ্রম পাড়া এবং দাস পাড়া এলাকায় পাঠশালা শুরু হয়েছে। শুধু সাক্ষর করে তুললেই হবে না, তারা যাতে ভুলে না যান সেজন্য নিয়মিত পাঠশালা চালিয়ে যাওয়া হবে। নাম সই করার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকও পড়ানো হবে।"
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'