
শেষ আপডেট: 3 June 2023 13:20
সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং: শুধু ক্যানিং মহকুমারই ছ’জন প্রাণ খোয়ালেন বালেশ্বরের ট্রেন দুর্ঘটনায়। এরা সবাই পরিযায়ী শ্রমিক। কেউ ভিনরাজ্যে যাচ্ছিলেন ধান রোয়ার কাজ করতে, কেউ যাচ্ছিলেন রাজমিস্ত্রির কাজ করতে। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঁধার নামল তাঁদের পরিবারে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাসন্তী থানা এলাকার ছড়ানেখালি গ্রামের একই পরিবারের তিন ভাই। সংসারের চাকাটা সচল রাখতে বরাবরই দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে ধান কাটতে যান হারান গায়েন, নিশিকান্ত গায়েন, দিবাকর গায়েন। এবার যাচ্ছিলেন তামিলনাড়ু। অন্যবার ফিরে আসেন। এবার আর ঘরে ফেরা হল না তাঁদের। ধান রোয়ার কাজ করতে যাওয়ার জন্য শুক্রবার সকাল ৯টার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বাসন্তীর গায়েন পরিবারের তিন সদস্য। তাঁদের মৃত্যুর খবর আসার পরে এখন ঘর থেকে শুধুই কান্নার রোল।
দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে গায়েন পরিবারের প্রতিবেশী বিকাশ হালদার, সঞ্জয় হালদারেও। অপর দিকে ক্যানিংয়ের ইটখোলা পঞ্চায়েতের সুখসাগর পাড়ার সামসুদ্দিন সর্দার নামে এক পরিযায়ী শ্রমিকেরও মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়। সুখসাগর পাড়ার তারিফ হোসেন সর্দার, সাফিউদ্দিন সর্দার, সামসুদ্দিন সর্দার রাজমিস্ত্রির কাজ করতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সামসুদ্দিনের। জেলা প্রশাসনসূত্রে খবর ক্যানিং, জীবনতলা, বাসন্তী ও গোসাবার বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। এই পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই জেলার বাসিন্দা ওই ট্রেনে সওয়ার হয়েছিলেন এমন ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন ৯৯ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ৩৯ জন। অভিশপ্ত ট্রেন থেকে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে এসেছেন ১৬ জন।
করমন্ডলে আহত যাত্রীদের ফেরানো হচ্ছে হাওড়ায়, স্টেশনেই থাকবে চিকিৎসার ব্যবস্থা, জানাল নবান্ন