দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শুক্রবার সকালের আপডেট বলছে, এ রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৪। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে এই সংখ্যা ছিল ৪৫৬। অর্থাৎ নতুন করে ৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন একদিনে, যা এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি।
ঘটনাচক্রে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলেই নবান্নে প্রেস কনফারেন্স করে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা যে হিসেব দিয়েছিলেন, তাতেও তিনি জানিয়েছিলেন শেষ ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় নতুন করোনা কেস ধরা পড়েছে ৫৮টি। সেই অর্থে বলতে গেলে, এই প্রথম রাজ্যের দেওয়া আপডেটের সঙ্গে মিলে গেল কেন্দ্রের আপডেট।
এমনকি রাজ্য ও কেন্দ্র উভয়েই জানিয়েছে এ পর্যন্ত বাংলায় করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০৩ জন এবং মারা গেছেন ১৫ জন। পরিসংখ্যানের কোনও তফাত নেই এখানেও।
কিন্তু প্রশ্ন উঠিয়েছে রাজ্যে করোনা অ্যাকটিভের সংখ্যা। কেন্দ্রের আপডেট অনুযায়ী সুস্থ ও মৃতদের বাদ দিয়ে এই মুহূর্তে বাংলায় মোট করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৩৯৬। সেখানে রাজ্যের মুখ্যসচিব কিন্তু গতকাল এই সংখ্যাটি বলেছেন ৩৩৪। অর্থাৎ সহজ গাণিতিক অঙ্ক বলছে, ৬২ জনের হিসেব মিলছে না।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য পরিসংখ্যানের মধ্যে কোনও তফাত থাকবে না, সেটাই প্রত্যাশিত। কারণ, এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক মনগড়া বা এক তরফা কোনও পরিসংখ্যান জানাতে পারে না। দিল্লির সেই সাংবিধানিক এক্তিয়ারও নেই। কারণ, আইনশৃঙ্খলার মতই স্বাস্থ্য রাজ্যের বিষয়। রাজ্য যা তথ্য জানাবে তাই বলবে দিল্লি।
এটা ঠিক বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুযায়ী এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মোতাবেক করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় কেন্দ্রের সার্বিক এক্তিয়ার রয়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ রাজ্য সরকার মানতে বাধ্য। কিন্তু সেই এক্তিয়ার রয়েছে মূলত সংক্রমণ মোকাবিলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে। আক্রান্ত বা মৃতদের ব্যাপারে রাজ্য যা পরিসংখ্যান দেবে কেন্দ্র সেটাই জানানোর কথা।

প্রশ্ন হল, তা হলেও ফারাক হচ্ছে কেন? এই প্রশ্ন এর আগে মুখ্য সচিব রাজীব সিনহাকে করা হয়েছিল, তিনি তার সদুত্তর দেননি। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, কেন্দ্র কেন রাজ্যের সংখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করছে। আমরা তো করছি না।
প্রসঙ্গত, বাংলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলে বারবার অভিযোগ করেছেন একাংশ চিকিৎসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এমনকি চিকিৎসকদের সংগঠন দাবি জানিয়েছে, করোনাভাইরাস ঘটিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক প্রটোকল মানা হোক। তা অবশ্য এখনও মানেনি রাজ্য সরকার। বরং এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য দফতর গঠিত অডিট কমিটির মতই চূড়ান্ত বলে এখনও গণ্য হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয় এটাই যে করোনার হিসেবে এই ৬২ জনের ফারাক নিয়ে নবান্ন আজ কোনও ব্যাখ্যা দেয় কিনা।