
শেষ আপডেট: 25 July 2023 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গলমহলের নবপ্রজন্ম নতুন করে যাতে বিপথগামী না হয়ে পড়ে তাই সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছিল ক্রীড়া টুর্নামেন্ট। ফি-বারই ওই টুর্নামেন্টের বিজয়ী এবং রানার্স আপ দলের খেলোয়াড়দের সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিতে নিযুক্ত করে রাজ্য। চলতি বছরেও জঙ্গলমহলের (Jungle Mahal) এমন ৫৮ জন তরুণ ক্রীড়াবিদকে সিভিক ভলান্টিয়ারের (Civic Volunteer) চাকরিতে নিযুক্ত করল রাজ্য। মঙ্গলবার সকালে টুইট করে নিজেই একথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
টুইটে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘আমি ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত যে রাজ্য সরকার এখন জঙ্গলমহল কাপ, সৈকত কাপ এবং রাঙামাটি ক্রীড়া উৎসবে আরও ৫৮ জন বিজয়ী এবং রানার্স আপ অংশগ্রহণকারীদের বিশেষ ক্যাটাগরির সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে এবং এইভাবে, সফল তরুণ ক্রীড়া প্রতিভাদের মধ্যে থেকে এই ধরনের সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের মোট সংখ্যা ৪,৪৩২ এ পৌঁছেছে।’
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাখির ডাকে নয়, এক দশক আগে জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙত বোমা, গুলির আওয়াজে। বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে থাকত তল্লাটের বাতাস। প্রতি মুহূর্তে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা, যেন যুদ্ধক্ষেত্র! ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগকে সামনে রেখে তেতে উঠেছিল জঙ্গলমহল। জনসাধারণের কমিটির আড়ালে ধীরে ধীরে আস্ত জঙ্গলমহলের দখল নিয়েছিল মাওবাদীরা।
অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গল আর পাহাড়ে ঘেরা বিস্তীর্ণ তল্লাট। পালা বদলের জমানায় জামবনির বুড়িশোল জঙ্গলে যৌথবাহিনীর গুলিতে মাও নেতা মাল্লেজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির মৃত্যুর পর থেকেই ধীরে ধীরে মাও-রাশ আলগা হতে শুরু করে জঙ্গলমহলে।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে শুরু করে মাওবাদী ও তদানীন্তন জনসাধারণের কমিটির একাংশ নেতা। আত্মসমর্পণের বিনিময়ে মেলে সরকারি চাকরিও। জঙ্গলমহলের যুবকদের নতুন করে কেউ যাতে বিপথে পরিচালিত করতে না পারে, সম্ভবত সেই কারণেই বাংলার তখতে দ্বিতীয়বার বসার পর ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রত্যন্ত এলাকার ছেলেমেয়েদের ক্রীড়ার প্রতি উৎসাহিত করে তুলতে একাধিক জঙ্গলমহল কাপ এর আয়োজন করে রাজ্য।
তাতে বিপুল সাড়া দেখে ধীরে ধীরে রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও সরকারি উদ্যোগে শুরু হয় ক্রীড়া টুর্নামেন্ট। সেগুলি হল, হিমাচল-তরাই-ডুয়ার্স ক্রীড়া উৎসব, সুন্দরবন কাপ, সৈকত কাপ, কোচবিহার কাপ, ক্ষেত-নদী উৎসব, জলতরঙ্গ ক্রীড়া উৎসব, রাঙামাটি ক্রীড়া উৎসব। এরপরই বিজয়ীদের সিভিক ভলান্টিয়ারের পদে নিয়োগ করে কর্ম সংস্থানেরও বিকল্প পথ তৈরির উদ্যোগ নেয় রাজ্য।
আরও পড়ুন: সংসদে দেবের সঙ্গে ধনকড়ের আড্ডা জমে গেল, আড় চোখে দেখল কি তৃণমূল!