দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনের বেলায় কেউ মাছ বিক্রি করে কেউ আবার মাস্ক বিক্রি করে। কেউ বা যুক্ত কোনও প্লেসমেন্ট সংস্থার সঙ্গে। তবে এ সব কাজকর্মই দিনের আলোয়। রাত হলে এই মানুষগুলিই জোট বেঁধে হানা দেয় ফাঁকা এটিএম কাউন্টারে! শিলিগুড়িতে প্রায় এক মাস ধরে এমনটাই চলছিল। একের পর এক এটিএমে লুঠের চেষ্টা চলছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ শেষ পর্যন্ত ধরে ফেলল ৫ দুষ্কৃতীকে।
পরপর অভিযোগ আসছিল পুলিশের কাছে। তদন্তে নেমে দেখা যায়, এটিএম লুটে একেবারেই কাঁচা হাতের কাজ করছে তারা। কিন্তু তারা ধরা পড়ে এটিএম লুঠ করতে গিয়ে নয়, গাঁজা পাচার করতে গিয়ে। তার পরে এই চক্রকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই পুলিশ রীতিমতো চমকে যায়। কারণ শুধু এটিএম লুঠই নয়, এই দুষ্কৃতী চক্রটি ডাকাতি, চুরি সহ নানা অপরাধের কারবার চালাচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। বড় মাপের টাকার সংস্থান করতে মাঝেমধ্যে এরা গাঁজা পাচারও করত।
গাঁজা পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে দুষ্কৃতীরা। তার পরে সামনে আসে এটিএম লুঠ-সহ আরও নানা দুষ্কর্মের কথা। ধৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এদিন শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি (পূর্ব) নিমা নরবু ভুটিয়া বলেন, "অনেকদিন থেকেই আমরা ধন্দে ছিলাম। এবার এটিএম লুটের একটা কিনারা করা গেল। আরো কিছু জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে কী কী অপরাধের সঙ্গে এরা যুক্ত রয়েছে।"
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজনের বাড়ি ইসলামপুর হলেও বাকিরা শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকাতেই থাকে। রাজেন সরকার নামে এক দুষ্কৃতীর বাড়ি ফাঁসিদেওয়া। অপর দুষ্কৃতী গৌতম মালি কুখ্যাত অপরাধী। খোকন অধিকারী প্লেসমেন্ট সংস্থায় কাজ করে। সুব্রত দে মাস্ক বিক্রি করে। ভজন দাসের পেশা মাছ বিক্রি।
গত ১১ জুলাই শিলিগুড়ি থেকে গাজলডোবার পথে একটি বোলেরো গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল এই দুষ্কৃতীরা। নিউ জলপাইগুড়ি থানা ও মিলন পল্লী ফাঁড়ির পুলিশ ঘিরে ফেলে তাদের। পাঁচ জনকে ধরা হয়, বাকিরা পালায়। গাড়িতে তল্লাশি চালাতে পাওয়া যায় প্রচুর গাঁজা। সেইসঙ্গে কিছু অস্ত্রশস্ত্র। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই পুলিশ অসঙ্গতি পায় কথাবার্তায়। তার পরে শুরু হয় আরও জেরা। আর সেই জেরাতেই স্বীকার ধৃতরা স্বীকার করে নেয় করে গাঁজা পাচার, চুরি, ডাকাতি ও এটিএম লুঠের কথা।
জানা গেছে, ফাঁকা এলাকা দেখে এরা এটিএমে হানা দিত। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনগুলো বেছে নিত। তারপরে এটিএম ভেঙে টাকা লুঠপাট করে পালিয়ে যেত। আশিঘর, শক্তিগড়, সংহতি মোড়, এনজেপি ভক্তিনগর এলাকায় অন্তত ১২টি এটিএমে হানা দিয়েছে এই দুষ্কৃতীরা। পুলিশ জানিয়েছে, এই দলে কুখ্যাত অপরাধীরা যেমন রয়েছে তেমনই নতুন অপরাধীরাও যুক্ত হয়েছে।