দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: ফিরে এল শচীন । শুক্রবার বিকেলে । বছরের প্রথম দিন বেঙ্গল সাফারি পার্কের ১৬ ফুট উঁচু এনক্লোজার টপকে পালিয়ে গিয়েছিল চিতাবাঘটি। তারপর থেকেই হন্যে হয়ে তার খোঁজ শুরু করেছিল পার্ক কর্তৃপক্ষ ও বনদফতর । পাতা হয় খাঁচা । বসানো হয় ট্রাপ ক্যামেরা । এমনকি বৃহস্পতিবার তাঁর খোঁজে ড্রোনও ওড়ানো হয়। অবশেষে শুক্রবার দুপুরের পর গুটি গুটি ফিরে এল সে।
বন দফতর ও পার্ক কর্তৃপক্ষের ধারণা, খিদের জ্বালাতেই ডেরায় ফিরেছে শচীন। এ দিন বিকেল সাড়ে ৪ টা নাগাদ তৃণভোজীদের ঘেরাটোপ থেকে লেপার্ড সাফারির দিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শচীনকে আসতে দেখেন বনকর্মীরা। এরপরই তাকে ঢোকানো হয় ঘেরাটোপের ভেতরে। অসুস্থ দেখে ঘুমপাড়ানি গুলি ব্যবহার করেনি বন দফতর। কর্মীদের কিছুক্ষণের চেষ্টায় নিজের নাইট শেল্টারে ঢুকে পড়ে শচীন। ততক্ষণে খবর পেয়ে চলে এসেছেন পার্কের ডিরেক্টর রাজেন্দ্র জাখর ও অন্যান্য আধিকারিকরা।
শচীনের মাথায় ও চোখের নীচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মনে করা হচ্ছে সে দিন গাছ থেকে লাফিয়ে পালানোর সময় এই আঘাতগুলো পেয়েছে সে। আলিপুরদুয়ারের একটি চা বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল তাকে। তখন সে ছোট্ট শাবক। সেই থেকে বনদফতরের তত্ত্বাবধানেই রাখা হয়েছিল তাকে। আটমাস আগে নিয়ে আসা হয়েছিল বেঙ্গল সাফারি পার্কে। পার্কের আধিকারিকরা জানান, ছোট থেকেই মুখের সামনে খাবার পেয়ে অভ্যস্ত শচীন। শিকার করে খেতে জানে না সে। তাই খিদে পেলে সে ফিরে আসতে পারে এই ভেবেই লেপার্ড সাফারির একটি গেট খোলা রাখা ছিল। সেদিক দিয়েই আসছিল শচীন।
বেঙ্গল সাফারি পার্কে ডিরেক্টর রাজেন্দ্র জাখর বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই ভেবেছিলাম সে বেঙ্গল সাফারির ভেতরেই আছে। শচীন শিকার করে খেতে পারে না। তাই বাইরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিলনা। শচীন ফিরে আসতেই তাকে খাবার দেওয়া হয়। যথাযথ চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’
শচীন ফিরে এসেছে এই খবর পাওয়ার পরই মুখে হাসি ফোটে তল্লাশিতে থাকা প্রায় ১০০ জন কর্মীর। খবর চলে যায় জলদাপাড়া থেকে আসা দুই হাতির মাহুতদের কাছেও। তাঁরাও আধিকারিকদের শুভেচ্ছা জানান। শচীনের খোঁজ মেলায় বেজায় খুশি বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘‘‘শচীন শিকার করতে জানে না। সেই ছোট্ট বেলায় চা বাগান থেকে কুড়িয়ে এনে তাকে রাখা হয়েছিল খয়েরবাড়ি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। তাই খিদে পেতেই সচিন নিজে থেকেই ফিরে এসেছে।’’
এ দিকে লাফ মেরে এনক্লোজার পার হয়ে শচীন বেপাত্তা হওয়ার পর থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছিল সাফারি পার্কের লেপার্ড সাফারি। কারণ শচীন বেপাত্তা হওয়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তার জুড়ি সৌরভকেও। ডিরেক্টর বলেন,‘শনিবার থেকেই বেঙ্গল সাফারি পুরোপুরি খুলে যাচ্ছে। তবে আপাতত শচীনকে সেখানে পাঠানো হবে না। তাই রাখা হবে না সৌরভকেও। ’’ এখন বেঙ্গল সাফারি পার্কের লেপার্ড সাফারিতে থাকবে কাজল আর শীতল।
ন্যাশনাল জু অথরিটির সার্টিফিকেট পাওয়ার পরেও কীভাবে শচীনের নিরাপত্তাতে ফাঁক থেকে গেলো, তা পুনর্বিবেচনার জন্য ‘নোট’ পাঠিয়ে সাহায্য চাওয়া হবে বলে জানান রাজ্যের বনমন্ত্রী।